× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিহঙ্গ

ভরতপুরের ভুমা ভুতুম প্যাঁচা

আ ন ম আমিনুর রহমান

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৩ ১০:০৫ এএম

রাজস্থানের ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্যে বাবলাগাছে বানানো বাসায় ভুমা ভুতুম প্যাঁচা (ডানে) ও ছানা (বাঁয়ে)। ছবি : লেখক।

রাজস্থানের ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্যে বাবলাগাছে বানানো বাসায় ভুমা ভুতুম প্যাঁচা (ডানে) ও ছানা (বাঁয়ে)। ছবি : লেখক।

সকাল থেকে ভারতের রাজস্থানের ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্যে ছবি তুলতে তুলতে বেশ ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। গাইড সুজিত বেড়া দাদা ফোনে জানালেন খাবার ক্যান্টিনে পাঠিয়েছেন, আমরা যেন সেখানে গিয়ে খেয়ে নিই। খাবার খাওয়ার সময় ভানু দেবগন নামে ভারতের একজন পক্ষিবিদের সঙ্গে পরিচয় হলো। তার সঙ্গে আলাপকালে পাখিগুলোর কথা জানতে পারলাম। বিকালে তিনিই আমাদের জায়গামতো নিয়ে গেলেন। পানির মধ্যে একটি বড় বাবলাগাছ। পাখিগুলো সেই গাছের ওপর বাসা করেছে। বাসায় ছানাও আছে।

পাখিগুলোকে দেখা গেলেও বাবলার সরু ডালপালা ও কাঁটার জন্য তাদের ভালো ছবি তুলতে পারছি না। তা ছাড়া নিশাচর পাখিগুলো এখন ঘুমুচ্ছে। কাজেই তাদের চোখ দেখতে পাচ্ছি না। অপেক্ষায় আছি কখন চোখ খুলবে আর আমিও ক্লিক করব। অপেক্ষা করতে করতে ক্যামেরার চোখে আশপাশটা একটু দেখে নিচ্ছি। বাবলাগাছের নিচে পানিতে যাঠুয়া বক (Great Egret), গো-বক (Cattle Egret), দোচরা (Black-headed Ibis), ডুংকরসহ (Common Moorhen) বিভিন্ন প্রজাতির জলজ পাখি যার যার কাজে ব্যস্তভাবে সময় কাটাচ্ছে।

আশেপাশের কয়েকটি গাছে সোনাজঙ্ঘার (Painted Stork) ছানারা চুপচাপ বসে আছে। কেউ কেউ অবশ্য গাছ থেকে মাটিতে নেমে ঘোরাফেরা করছে। খানিকটা দূরে একঝাঁক লেনজা হাঁস (Northern Pintail) বিশ্রাম নিচ্ছে। আকাশে শিকারের খোঁজে বিভিন্ন প্রজাতির চিল-ঈগল-বাজ পাখিরা চক্কর দিচ্ছে। কী চমৎকার এক নৈসর্গিক দৃশ্য! এবার আস্তে আস্তে বাবলাগাছের দিকে ক্যামেরা ঘোরাতেই দেখি তারা আধা খোলা চোখে তাকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে ক্লিক করলাম। 

ভরতপুরের বাবলাগাছের পাখিগুলো এদেশের বিরল ও স্বল্প ঝুঁকিসম্পন্ন আবাসিক পাখি ভুমা ভুতুম প্যাঁচা। পশ্চিমবঙ্গে শিঙ্গা প্যাঁচা নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম Dusky Eagle-owl বা Dusky Horned Owl। স্ট্রিজিডি গোত্রের প্যাঁচাটির বৈজ্ঞানিক নাম Bubo coromandus। তারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আবাসিক পাখি। 

প্রাপ্তবয়স্ক ভুমা ভুতুম প্যাঁচার দেহের দৈর্ঘ্য ৪৮-৫৩ সেমি। মাথার ওপর বিশাল আকারের কানঝুঁটি। মুখের গোলক সাদামাটা ধূসর ও গোলকের সীমারেখা সরু ও গাঢ় রঙের। দেহের ওপরটা ধূসরাভ-বাদামি, তার ওপর থাকে অতি সরু সাদা ছিটা ও গাঢ় আঁকাবাঁকা দাগ। কাঁধ ও ডানায় পীতাভ ও সাদা ছিট রয়েছে। সূক্ষ্ম আঁকাবাঁকা দাগসহ দেহের নিচটা ধূসরাভ। চোখের রঙ হালকা হলুদ। চঞ্চু নীলচে-সাদা। পা ও আঙুল হালকা বাদামি। উড়ন্ত অবস্থায় লেজের আড়াআড়ি ডোরা চোখে পাড়ে। ছানাগুলো সাদা কোমল পালকে ঢাকা থাকে। 

তারা পুরো দেশের বন-বাদাড় ও গাছপালাসম্পন্ন এলাকায় বাস করে। সচরাচর একাকী বা জোড়ায় থাকে। দিনের বেলা ছায়াঘেরা গাছে ঘুমায় ও সন্ধ্যার কিছু আগে জেগে ওঠে। রাতে, বিশেষ করে গোধূলিতে ও ভোরে শিকারের জন্য বিশ্রামের জায়গা থেকে বের হয়। গাছে বসে ভূমিতে শিকার খোঁজে ও লম্বা নখের সাহায্যে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ, গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ, বড়ো পোকামাকড় ইত্যাদি শিকার করে খায়। অবশ্য মেঘলা দিনে বা বৃষ্টির সময় দিনের বেলা উন্মুক্ত স্থানে বসে থাকে ও শিকার করে। সন্ধ্যার সময় ‘উওও-উওও-উওও…’ শব্দে ডাকে।

নভেম্বর থেকে এপ্রিল প্রজননকাল। মানুষের আবাস এলাকা ও কোনো জলাশয়ের কাছে পুরোনো বড় গাছের কাণ্ডের ভাঁজে কাঠিকুটি দিয়ে বাসা বানায়। অবশ্য শিকারি পাখির পরিত্যক্ত বাসাও ব্যবহার করতে পারে। ডিম পাড়ে ১-২টি, রঙ সাদা। মূলত পেঁচি একাই ডিমে তা দেয়। পেঁচি খাবারের জন্য বাইরে গেলে প্যাঁচা ডিমের ওপর বসে পাহারা দেয়। প্রথম ডিম পাড়ার বেশ কদিন পর দ্বিতীয় ডিম পাড়ে, কাজেই বাসায় দুই আকারের ছানা দেখা যায়। ডিম ফোটা বা ছানা লালনপালন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি। আয়ুষ্কাল ১১-১২ বছর। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা