× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমেরিকান চিয়াসিডের চাষ এখন পঞ্চগড়ে

আবু সালেহ মো. রায়হান, পঞ্চগড়

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১৮ এএম

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১৯ এএম

চিয়া কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। প্রবা ফটো

চিয়া কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। প্রবা ফটো

চিয়া হচ্ছে সালভিয়া হিসপানিকা নামক মিন্ট প্রজাতির উদ্ভিদের বীজ। চিয়া আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলের ফসল হলেও বর্তমানে দেশের পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম চারাখুঁড়ায় চাষ হচ্ছে।

২০২১ সালে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আমিনুর রহমান ইউটিউবে চিয়াসিড দেখেন। পরে এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ সম্পর্কে জেনে বীজ সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে এক বিঘা জমিতে চাষ করেন। আশানুরূপ ফলন ও অন্য ফসলের তুলনায় ৬-৭ গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় চলতি বছরে ৯ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ শুরু করেন। 

চিয়াসিডকে বলা হয় সুপারফুড। নভেম্বর থেকে মার্চ- চার মাস মেয়াদি চিয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকার শীতকালীন ফসল। দেশের সর্বউত্তরের শীতপ্রধান জেলা পঞ্চগড়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় এই অঞ্চলে ফসলটি ভালো হচ্ছে। এ মৌসুমে চিয়ার বাম্পার ফলন হওয়ায় বিঘাপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুনাফার আশা এই কৃষি উদ্যোক্তার।

আমিনুর রহমান বলেন, ইউটিউব দেখে আসলে আমি চিয়া চাষে আগ্রহী হয়েছি। চিয়া শুধু একটি ফসলই নয়, এটি ভেষজ বীজ। যার অনেক ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এটি মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী। আমি নিজেও চিয়া খেয়েছি। বিশ্ববাজারে চিয়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনজন চাষি আমার কাছ থেকে বীজ নিয়ে চিয়া চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি লাখ টাকা আয় থাকবে।

গত বছর আমিনুরের সফলতা দেখে চিয়াসিডের চাষাবাদ করেছেন একই এলাকার কৃষক দিনেশ চন্দ্র রায় (৫৭) ও আব্দুস সাত্তার (৩৭)সহ তিনজন। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাষিরা ঝুঁকছেন বিদেশি এই শস্যদানা চাষে। ফলে পুষ্টি ও ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এই চিয়াসিডকে ঘিরে প্রান্তিক এ জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে চিয়া পাকতে শুরু করায় ফসল কেটে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, বেলে দোআঁশ মাটি চিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত। আর অন্য ফসলের তুলনায় ৬-৭ গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায় চিয়াসিডে। প্রতি বিঘা জমিতে চিয়ার বীজ লাগে দেড় থেকে দুই কেজি। আর চাষাবাদ করতে খরচ হয় মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে ১১০-১২০ দিনে চিয়াসিড উৎপাদন হয় ১২০-১৩০ কেজি। অন্য ফসলের তুলনায় সার ও সেচের পরিমাণও লাগে কম। ফলে কম খরচে অধিক লাভের আশায় জেলার চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছে চিয়া চাষে। এবার চিয়ার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে সোনালি হাসি। 

আমিনুরের মতো এবার বাণিজ্যিকভাবে চিয়ার আবাদ করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার কৃষক কাজী মিজানুর রহমান। গত মৌসুমে তার নতুন লাগানো আমবাগানে চিয়ার চাষাবাদ করে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এবার বাণিজ্যিকভাবে তিন বিঘা জমিতে তা চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বেশ খুশি তিনি।

কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমি মূলত একজন আখচাষি। বর্তমানে জেলায় আখের আবাদ কমে যাওয়ায় এবার বিদেশি লাভজনক ফসল চিয়া চাষ করেছি। বাজারে দেখেছি এ ফসলের চাহিদা ও দাম অনেক। আশা করছি অনেক টাকা আয় হবে এবার। আমার পরিকল্পনা আছে আগামী বছর বৃহৎ আকারে চাষাবাদের।

চিয়া দেখতে তিল বা তিসি ফসলের মতোই। দেশের বাজারে দিন দিন বাড়ছে চিয়াসিডের চাহিদা। ভোক্তারা পুষ্টি ও ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এ ফসল বাজার থেকে বেশ চড়া দামেই কিনছেন। বিদেশ থেকে আমদানি করা চিয়াসিড বাজারে বিক্রি হচ্ছে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে দামও কমে আসবে বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা।

পঞ্চগড় বাজারের মেসার্স রাজু বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সরফরাজ হোসেন রাজু বলেন, বর্তমানে বাজারে চিয়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে বেশি দামে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে দেশে যদি এ ফসলের উৎপাদন বাড়ে তা হলে ক্রেতারা কম দামে কিনতে পারবে আর আমরা বিক্রেতারা বেশি পরিমাণে বিক্রি করতে পারব। ফলে আমরাও যেমন লাভবান হব, তেমনি চাষিরাও চিয়া চাষ করে ভালো দাম পেয়ে উপকৃত হবে। 

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের (ঢাকা, পান্থপথ) পুষ্টিবিদ ও ডায়াটিশিয়ান রেবেকা সুলতানা রুমা বলেন, দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় চিয়াসিড রাখা উচিত।

চিয়াকে মূলত সুপার ফুড বলার কারণ হলো- এতে প্রোটিন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা পুষ্টির উপস্থিতি রয়েছে; যা বদহজম, হাড়ের সুস্থতা, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং যাদের হৃদরোগের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত খেতে পারেন।

প্রতিদিন যে পরিমাণ ফাইবার আমাদের প্রয়োজন তার ৪০ শতাংশ পূরণ করবে দুই চামচ চিয়াসিড। ব্রোকলি, ব্রুবেরি ও দুধের চেয়ে বেশি উপকারী এ চিয়াসিড। আমরা খাবারের আধা ঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ চিয়াসিড গুলিয়ে খেতে পারি। এ ছাড়া চিয়া সালাদ, সবজি বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে সহজেই খাওয়া যায়। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের চারাখুঁড়া ও তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় সোয়া পাঁচ একর জমিতে ছয়জন কৃষক চিয়ার চাষাবাদ করেছেন। হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু চিয়াসিড চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। পরিশ্রম ও ঝুঁকি কম থাকায় এই ফসল চাষিদের অল্প সময়ে অল্প খরচে অধিক মুনাফার নিশ্চয়তা দেয়। পঞ্চগড়ের কৃষি অর্থনীতিতে চিয়াসিড নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দীন বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া শীতকালীন ফসল চিয়ার জন্য বেশ উপযোগী। ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এ ফসল কম খরচে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। বাজারে দিন দিন চিয়ার চাহিদা বাড়ছে। আমরা যদি দেশে এর উৎপাদন বাড়াতে পারি, তাহলে বিদেশ থেকে আমাদের চিয়া আমদানি করতে হবে না। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে উল্টো রপ্তানি করতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, চিয়ার চাষাবাদ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা কৃষকের পাশে আছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা