গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ২১:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৩৫ পিএম
সুইট কর্ন বা মিষ্টি ভুট্টা নামে পরিচিত ভুট্টার নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন।
উচ্চমানের সুগার, প্রোটিন সমৃদ্ধ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গুণাবলী সম্পন্ন এই ভুট্টা দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তার দাবি। জাতটি গবেষণা প্লটে এবং কৃষক পর্যায়েও চাষ হচ্ছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টোমলজি বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন জানান, ২০১৪ সালে তিনি কোরিয়া থেকে মিষ্টি ভুট্টার ১৪টি ইনব্রিড বীজ এনে টবে চাষ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে চাষ করে দেখেন এ দেশের আবহাওয়ায় এটি ফলন সম্ভব। পরে এর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ‘বিইউ মিষ্টি ভুট্টা’ নামে চার বছর গবেষণা মাঠে চাষ করেন। বর্তমানে মিষ্টি ভুট্টার এ জাতটি কৃষক পর্যায়ে পৌছানো প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত বীজ রোপণের ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে বিইউ মিষ্টি ভুট্টার মোচার দানা দুধালো দশায় উপনীত হয়। তখন এগুলো বাজারজাত করা যায়। এ ছাড়া মোচাগুলোর সবুজ খোসা, গাছ, পাতা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় । নতুন উদ্ভাবিত জাতে রোগ বালাই কম থাকায় কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১২ দশমিক ৫ টন হয়ে থাকে। আমাদের দেশে প্রচলিত জাতগুলো পশুখাদ্য হিসেবে বেশি প্রচলিত। এ জাতটি সুইট কর্ণ বা পোল কর্ণ নামে পরিচতি।
অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘মিষ্টি ভুট্টা সাধারণ কাঁচা বা পুড়িয়ে খাওয়া যায়। দেশের প্রচলিত জাত গুলোর তুলনায় এ জাতের ভুট্টায় চিনি, প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া উচ্চ ফলনশীল ও রোগ বালাই নেই বলে কৃষকরা এ জাতের ভুট্টা চাষে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারবে। ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে ২০২২ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, নীলফামারী, পঞ্চগড়ের কাউয়াপুকুর এলাকায় চাষাবাদ করা হয়েছে।
ভুট্টার জাতটির পুষ্টিগুন নিয়ে তিনি বলেন, ‘উচ্চমানের সুগার সমৃদ্ধ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গুণাবলীর জন্য মিষ্টি ভুট্টা জাপান, কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। কোনো রকম প্রক্রিয়া ছাড়াই এটি কাঁচা বা সিদ্ধ করে চিবিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়া সালাদ, স্যুপ এবং সবজি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত ৬৮টি বিভিন্ন ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। নতুন বিইউ মিষ্টি ভুট্টা জাতটি অবমুক্ত করা হলে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা যাবে।’