রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১১:২৭ এএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম
জমি থেকে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছেন চাষিরা। প্রবা ফটো
চলতি বছর রাজবাড়ীতে হালি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ বেশি এবং আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় ও বাজারদর কমে যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এতে পেঁয়াজ আবাদে চাষিদের খরচের টাকা উঠছে না। কৃষি অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির কারণে কৃষক দ্রুত পেঁয়াজ উত্তোলন করায় বাজারে দাম কিছুটা কমেছে।
রাজবাড়ীর সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা, গোয়ালন্দ, কালুখালীÑএ পাঁচ উপজেলায়ই অন্যান্য ফসলের চাইতে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়। এ বছর বিঘাপ্রতি পেঁয়াজবীজ, সার ও কীটনাশক, চাষাবাদ, দিনমজুরসহ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। যা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা বাজারদর হওয়ায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। এতে উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন। বাকি খরচের অর্ধেক টাকা যাচ্ছে লোকসানে।
চলতি মৌসুমে হালি ও মূলকাটা দুই ধরনের পেঁয়াজ ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। দেশের উৎপাদনের ১৫ ভাগ পেঁয়াজ আবাদ হয় রাজবাড়ীতে।
জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট বিলপুটিয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মো. কাউসার খান বলেন, ‘২ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। জমি, বীজ, সার, ওষুধ, কীটনাশক, সেচ, দিনমজুরসহ বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু নিম্নমানের বীজ, বেশি খরচ, প্রাকৃতিক কারণে পেঁয়াজের ফলন কম ও বাজারদর কম হওয়ায় খরচের অর্ধেক টাকাই উঠছে না।’
তার মতো একই এলাকার কৃষক আব্দুল বারেক ফকির, সালাউদ্দিন ফকির, লিটন মৃধা, সাত্তার গাজীসহ আরও অনেক কৃষক পেঁয়াজ আবাদ করে লোকসানে পড়েছেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করা ও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার অনুরোধ জানান চাষিরা। পেঁয়াজ আমদানি না করা হলে লোকসান কিছুটা কমবে বলে জানান তারা।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভালো উৎস থেকে পেঁয়াজবীজ না কিনলে পেঁয়াজের ফলন কম হতে পারে। তবে গত কয়েক দিন বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক দ্রুত পেঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রি করায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। আবহাওয়া ভালো হলে কৃষক পেঁয়াজের ভালো দাম পাবেন।’