ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৪১ এএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৫ এএম
বোরো ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। প্রবা ফটো
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষিতে। সেচনির্ভর বোরো চাষ মৌসুমে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে বোরো চাষে বাড়তি খরচে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। বোরো চাষের বড় অংশই খরচ জোগান দিতে হয় সেচ খাতে। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়ায় বোরো চাষে গুনতে হবে বাড়তি খরচ। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও তা তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেচ খাতের বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তার মধ্যেই ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা কৃষি বিভাগের নির্ধারিত ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ভোর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজ নিজ জমিতে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ রয়েছে ২৩৪ টি। এর মধ্যে বিএমডিএর ১১১টি, বিএডিসির ১৭টি। ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০৬টি নলকূপ রয়েছে। অগভীর সেচপাম্প রয়েছে ৩ হাজার ৮৯০টি। এতে বিদ্যুৎচালিত অগভীর সেচপাম্প রয়েছে ৪২০টি ও ডিজেলচালিত অগভীর সেচপাম্প রয়েছে তিন হাজার ৪৭০টি।
উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের কৃষক শ্যামল কান্তি রায় বলেন, এখন কেউ কেউ বোরো চাষের উপযোগি জমি, বীজতলা, রোপণে ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেচ খরচ। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় এ বছর বোরো আবাদে সেচ খরচ বাড়লেও বাড়বে না উৎপাদন। কারণ পূর্বের সেচ খরচে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে, এ বছর সেচ মূল্যবৃদ্ধির কারণেও একই পরিমাণ ধান উৎপাদন হবে।
খয়েরবাড়ি ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক সুলতান আলী বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে প্রতি একরে সেচ খরচ ছিল উঁচু জমিতে তিন হাজার ৪০০ টাকা ও নিচু জমিতে তিন হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু এবার সেচ খরচ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর প্রতি একরে সেই সেচ খরচও বেড়ে দাঁড়িয়েছে উঁচু জমিতে তিন হাজার ৭০০ টাকা এবং নিচু জমিতে তিন হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে গত বছর প্রতি একর জমিতে বোরো চাষে সার, কীটনাশক ওষুধ, সেচ, রোপণসহ মোট খরচ পড়েছে সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে একই জমিতে বোরো আবাদে খরচ পড়বে সাড়ে ১৫ হাজার থেকে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে আমাদের মতো চাষিদের চরম বিপাকে পড়তে হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, ‘ডিজেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে বোরো আবাদে তেমন কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। আমন চাষ মৌসুমে উপজেলা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে রবিশস্যেরও চাষাবাদের ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা সেখান থেকেও লাভবান হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না হলে বোরো ধানেরও ফলন ভালো হবে।’