হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:২২ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:১৩ পিএম
নাব্য সংকটে থাকা হবিগঞ্জের একটি নদী। প্রবা ফটো
হবিগঞ্জ জেলার প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় নদী নাব্য সংকটে পড়েছে। এছাড়া নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রভাবশালী লোকজন। ফলে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে নৌ-যোগাযোগ ও চাষাবাদ এখন হুমকিতে। নাব্যতা সংকটে পড়া নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে শাখা বরাক, বিজনা, ডেবনা, রত্না, বিবিয়ানা, খোয়াই, শাখা কুশিয়ারা, কালনী, গাপলা, ভেড়ামোহনা, গোপলা বিজনা, নাড়াইজল, করাঙ্গী, সুতাং, শুটকি, কুদালিয়া, ফুলকুচিসহ আরও অনেকগুলো নদী।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৪৫টি নদী খননের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও কখন তা বাস্তবায়ন হবে তা বলতে পারছে না বোর্ড।। পরিবেশবাদীরা এ নদীগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হোসাইন মাহমুদ জানান, নবীগঞ্জের শাখা বরাক নদীকে দখলমুক্ত করে খননের জন্য কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জে নয়টি উপজেলায় পাঁচটি করে মোট ৪৫টি নদী খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। একনেকে পাস হলে কাজ শুরু হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেসব নদীতে আগে বড় ধরনের নৌ-যান চলাচল করত, এগুলোর অধিকাংশই এখন চলতে পারে না। পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা বালুতে নদীর মুখ ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা।
প্রবহমান বরাক, কুশিয়ারা, গোপলাবিজনা ও বিবিয়ানা নদীর শত কিলোমিটার নৌ-পথ জুড়ে এখন নাব্যতা সংকট। শুকনো মৌসুমে এগুলোতে পানি থাকে না। বৈশাখ মাস আসলেই পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় পানি ফুলে উঠে বিলীন হয়ে যায় ফসলি জমি।
কুশিয়ারা নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার জুড়ে চর জেগেছে। এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীকে ঘিরে থাকা হাজারও শ্রমিক এখন কর্মহীন থাকছেন অধিকাংশ সময়। বরাক নদীর প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভরাট হয়ে নদীর নৌ-পথ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর অনেক স্থানে ধান চাষ করা হচ্ছে। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিবিয়ানা নদীর বুক পানিশূন্য থাকে অন্তত ছয় মাস। পলি পড়ে রীতিমত ফুটবল খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে অনেকাংশ। একই অবস্থা গোপলা বিজনা নদীরও। নদীর বৈরী আচরণের কারণে ঠিকমত ফসল ঘরে উঠাতে পারেন না হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ অনেক কৃষক।
নৌ-শ্রমিক আজিজুর রহমান জানান, বরাক, কুশিয়ারা, গোপলা বিজনা ও বিবিয়ানা নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এখন নৌকা না চলায় তারা কর্মহীন ।
মৎস্যজীবি রঞ্জিত দাস জানান, নদীগুলোতে ঠিকমত পানি না থাকায় মাছ কমে গেছে। ফলে অনেকেই অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, শীতকালে নদীতে পানির অভাবে সেচ দিতে না পারায় ধান চাষ ব্যহত হচ্ছে।
এছাড়াও নৌ-পথকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শতাধিক হাট-বাজার জৌলুস হারিয়েছে। এজন্য শিগগিরই নদীগুলো খনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো দিনদিন অস্তীত্ব বিলীনের দিকে গেলেও সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে করে নদীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়বে।’