জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এমনিতেই জগন্নাথপুরে আমন-বোরো ছাড়া অন্য কোনো ফলনের চাষাবাদ তেমন একটা হয় না, হলেও তা একেবারেই কম। তার ওপর অসময়ে তরমুজ চাষ, তা ভাবা যায় না।
প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলার মানুষ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। তার নেপথ্যে রয়েছেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ ও তার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা মাঠে ময়দানে ঘুরে ঘুরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করেন। তাদের আহ্বানে কৃষকেরাও সাড়া দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সরকারিভাবে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ফলে দিনে দিনে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। পতিত জমি আবাদের আওতায় আসছে।
এ রকমই এক সফল কৃষকের নাম খলিল মিয়া। তিনি উপজেলার পৌর শহরের বলবল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পলিভরাট মইয়ার হাওরে এবার তরমুজ ও মিষ্টি লাউ চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন। প্রতিদিন তার আবাদ করা জমির ফলন দেখতে মানুষ মইয়ার হাওরে ছুটে যাচ্ছেন। মইয়ার হাওরের পলিমাটি যেন সবুজের সমারোহ হয়ে উঠেছে। তরমুজ ও লাউ বাগানে গাছে গাছে ফলন ধরেছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে হাওরে। কৃষক খলিল মিয়া বলেন, গত বছর তিনি এখানে তরমুজ আবাদ করতে চেয়েছিলেন। শ্রমিক সংকটে তা পারেননি। এবার আগে থেকেই শ্রমিক এনেছেন। আশ্বিন মাসের শুরুতে তিনি প্রায় ৬ কেদার জমিতে তরমুজ আবাদ করেন। পাশাপাশি সাড়ে ৭০০ মিষ্টি লাউগাছ লাগান। প্রায় আড়াই মাস পর তরমুজ ফলন পাকতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে তিনি ৯৫ হাজার টাকার কালো তরমুজ বেচেন। তিনি আরও ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। আগামীতেও আরও অনেক তরমুজ বেচতে পারবেন। তবে এ পর্যন্ত জমি আবাদে তার ব্যয় হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তা তুলে তিনি অনেক লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি লাউগাছেও আশানুরূপ ফলন ধরেছে। এতেও লাভবান হবেন। এ ছাড়া তার বাগানে চাষ করা হয়েছে, সাদা তরমুজ, যা আগামী রমজান মাসে বাজারে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, অসময়ে তরমুজ আবাদ করায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক খলিল মিয়া। ফলে তিনি লাভবান হচ্ছেন। তা দেখে অন্য কৃষকেরাও এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা যায়। এতে পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আসবে। নতুন নতুন ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকরাও কৃষি বিপ্লবে ভূমিকা রাখতে পারবেন। খলিল মিয়ার মতো কাঙ্ক্ষিত কৃষকেরা এগিয়ে এলে জগন্নাথপুরের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের অন্যান্য স্থানে রপ্তানি করে আর্থিক লাভবান হওয়া সম্ভব। তা হলেই আমাদের কৃষি বিভাগের সব চেষ্টা সার্থক হবে।