× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পূর্বাভাস-ভিত্তিক ধান চাষ

কমছে ব্যয়, বাড়ছে উৎপাদন

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৩ পিএম

কমছে ব্যয়, বাড়ছে উৎপাদন

বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি ও ফসল উপ খাতের অবদান প্রায় ১৩.৪৭ এবং ৬.৭৭ শতাংশ, যা যৌথভাবে ২০.২৪ শতাংশ। কৃষির মধ্যে ধান হলো প্রধান ফসল। দেশের মোট ব্যবহৃত খাদ্যের মধ্যে ধানের অবদান ৮০ শতাংশ। এতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল হওয়া সত্ত্বেও এখনও অনেক কৃষক ধান চাষে ঐতিহ্যবাহী বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এ পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সেবা বা ওয়েদার ফরকাস্ট-বেইসড অ্যাডভাইজরি সার্ভিস (ডব্লিউএফবিএএস) প্রযুক্তি ধান উৎপাদনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। ২০২৩ সালে ব্রির এগ্রোমেট ল্যাবের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়াজ মো. ফারহাত রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা ‘সাস্টেইনিং রাইস প্রোডাক্টিভিটি থ্রোট ওয়েদার-রেজিলিয়েন্ট এগ্রিকালচারাল প্রাকটিস’ শীর্ষক প্রবন্ধটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন উইলি প্রকাশনা সংস্থার জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারে প্রকাশিত হয়।

গবেষণাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা দুটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছি। তার মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে চাষাবাদ, অপরটি আবহাওয়া পূর্বাভাস-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সেবা বা ডব্লিউএফবিএএস প্রযুক্তি। এতে বীজ বপন, চারা রোপণ, সার, আগাছানাশক, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ দেয়া, ফসল কাটাসহ প্রতিটি ধাপে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কৃষি পরামর্শ দেয়া হয়।

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ব্রির এগ্রোমেট ল্যাবের সমন্বয়ক ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. বি. এম. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৃষকদের জন্য ৭ দিনের আগাম পরামর্শ তৈরি করছি। ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় দেশের ৬টি জলবায়ু-সংবেদনশীল হটস্পটে মোট ২৪টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি চালু রয়েছে। সেখানে বৃষ্টি, খরা বা অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে কৃষকদের আগেভাগে জানানো হয়, যাতে তারা সঠিক সময়ে সেচ, সার বা কীটনাশক প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গবেষণায় যা মিলল

গবেষণায় দেখা গেছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সেবা ব্যবহার করলে ধান চাষে শ্রম, পানি ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসে আর ফলন ও কৃষকের আয় বেড়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টর জমিতে কৃষকদের গড়ে ৮৪০ ঘণ্টা শ্রম দিতে হয়, যেখানে ডব্লিউএফবিএএস পদ্ধতিতে প্রয়োজন হয় ৭২০ ঘণ্টা অর্থাৎ শ্রমঘণ্টা কমেছে ১২০ ঘণ্টা। একই সঙ্গে সারের ব্যবহার ১৬ শতাংশ , সেচের পানি ২৩ শতাংশ, আগাছানাশক ৫২ শতাংশ, কীটনাশক ৪০ শতাংশ এবং ছত্রাকনাশক ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সার ও সেচের সময় নির্ধারণ করায় খরচ কমেছে।

ব্রি’র গবেষণায় দেখা গেছে, আবহাওয়া-ভিত্তিক পরামর্শ অনুসরণকারী কৃষকদের ধানের ফলন বেড়েছে ৬.৭ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৮ শতাংশ গ্রামীণ কর্মসংস্থান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ধান উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে দেশে ১৩ মিলিয়নেরও বেশি কৃষক পরিবার ধান চাষে নিয়োজিত, যা ১.১৭ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে, অর্থাৎ দেশের মোট ফসলি জমির ৭৮ শতাংশ।

ধানের ফলন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

আবহাওয়ার পূর্বাভাস-ভিত্তিক পরামর্শে বিগত তিন বছর ধরে বোরো ও আমন ধানের আবাদ করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, আমি ২০২২ সাল থেকে আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করছি। আগে এক বিঘায় (৩৩ শতক) বোরোতে ১৩-১৪ হাজার টাকা খরচ হত। এখন বিঘা প্রতি খরচ কমছে ২-৩ হাজার টাকা। উৎপাদন কতটা বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে বোরেতে বিঘাপ্রতি ৫-১৬ মণ, এখন ১৮-২৫ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। তবে ধানের জাত অনুযায়ী ফলনের পার্থক্য হয়ে থাকে।

ডব্লিউএফবিএএস কার্যক্রমের প্রত্যাশা সম্পর্কে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, কৃষকের উন্নয়নই আমাদের প্রধান বিষয়। কৃষকরা যাতে যথাসময়ে সঠিক পরিচর্যা করতে পারে। এ অবস্থায় কৃষকরা আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে চাষাবাদ করলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে। তিনি বলেন, ধানের কোন বয়সে কী পরিমাণ বা কি ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, তার মাত্রা কতটুকু হবে সব বলে দেওয়া হচ্ছে। কখন সার, কীটনাশক দেবে এটি নিয়ে একটি কল সেন্টার করা হয়েছে। কৃষকদের প্রচুর কল আসছে। এখন লক্ষ্য ভয়েস কল দেওয়া। কৃষক কল দিয়ে সমস্যা জানালে আমরা ভয়েজের মাধ্যমে সমাধান দেব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা