ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৪ পিএম
বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’। বাংলাদেশে পরিচিত ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে। বিদেশি ফল হলেও আনারকলি স্বাদে-গন্ধে অনন্য। এই ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্টালিন। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘরি গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, মৃদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে দেশের ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্টালিন জানান, ছয়-সাত বছর আগে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজে নতুনত্ব আনতে চেয়েছেন। প্রথমদিকে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালের মাঝামাঝি প্যাশন ফ্রুটের খবর দেখে আগ্রহী হন। ওই বছরই পরীক্ষামূলকভাবে দুই শতাংশ জমিতে চাষ করেন। গত বছর বাগান থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেন। চলতি বছর প্রায় এক লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। মাত্র দুই শতক জমিতে এই ফল চাষ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আরও আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন।
স্টালিন বলেন, প্রথমে যখন আবাদ শুরু করি; তখন কেউ এ ফল চিনত না। এখন ইউটিউব-ফেসবুক দেখে অনেকেই আনারকলি ফল চেনেন। যে কারণে স্থানীয় বাজারেও চাহিদা বাড়ছে। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করা হয়।
তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, দুই শতক জমিতে আনারকলি আবাদ করে ফলন ভালো হয়েছে। যে কারণে এখন আরও আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ বাড়িয়েছি। বছরে এক বিঘা জমি থেকে গড়ে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার আনারকলি বিক্রি করা সম্ভব।
জানা যায়, আনারকলি মাচায় চাষ করতে হয়। প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এই ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। এই ফল ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, আয়রন ও জিংক-সমৃদ্ধ।
ঝিনাইদহের মহেশপুরের ঘুঘরি গ্রামের মানিক হোসেন মিয়াজি বলেন, স্টালিন ভাইয়ের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে উদ্যোক্তারা ছুটে আসছেন। বাগানে যে পরিমাণ ফল ধরে, তা দেখে আমরা অবাক। প্রচুর ফল ধরে, স্বাদও অসাধারণ।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকরাও উদ্যমী ও পরিশ্রমী। কৃষকরা জেলার প্রতিটি এলাকায় দারুণ সফলতা পাচ্ছেন। বিশেষ করে মহেশপুরের স্টালিন বিদেশি প্যাশন ফ্রুট চাষ করে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনন্য। তরুণ যুবকরা চাইলে অল্প বিনিয়োগে উন্নত পদ্ধতিতে কৃষিকাজে আত্মনিয়োগ করলে তারাও স্বাবলম্বী হবে।