ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২২ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২ ১৯:৪২ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রি সেচ প্রকল্প
আমনের মৌসুমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় খারাপ সময় পার করে আসছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। তবে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমন ধানের জমিতে সম্পূরক সেচের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠাকুরগাঁও জেলা।
পাউবোর এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েক লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। আমনসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ফলনে বিস্তর সুবিধা পাচ্ছেন তারা। এতে আমনের বাম্পার ফলনসহ কৃষিতে ভালো লাভের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও জেলা পাউবোর তথ্য মতে, এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়িত ভুল্লি বাঁধ সেচ প্রকল্পের ৮০০ হেক্টর, টাংগন বাঁধ সেচ প্রকল্পের ৪,৪৫০ হেক্টর, বুড়ি বাঁধ সেচ প্রকল্পের ১,৭২০ হেক্টর জমিসহ জেলার সব সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১,৬৬৫ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ১১,৬৬৫ হেক্টর জমিতে ৫৮,২৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হবে, যার মূল্য ১১৫ কোটি টাকা। এতে আনুমানিক ৮১ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে। জেলা অফিসের আওতায় ৮৯টি কৃষক পানি ব্যবস্থাপনা দল রয়েছে। এতে ভুল্লি বাঁধ সেচ প্রকল্পের এক হাজার, টাংগন বাঁধ ছয় হাজার ও বুড়ি বাঁধ সেচ প্রকল্পে দুই হাজার কৃষক সুবিধা পাচ্ছেন।
আমন ধানের জমিতে সম্পূরক সেচে কৃষিতে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। স্বপ্ন দেখছেন ভালো ফসল ও চড়া দামের।
বুড়ি বাঁধ সেচ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী কৃষক দয়াল রায় বলেন, যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন সেটি পাওয়া যাচ্ছে না খরার কারণে। তবে সম্পূরক সেচের মাধ্যমে আমন জমিতে পানি দেওয়ায় হতাশা দূর হয়েছে। ভালো ফসল হবে আশা করছি।
ভুল্লি বাঁধ সেব প্রকল্পের আরেক সুবিধাভোগী রফিকুল ইসলাম ও আকবর আলী জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে পাউবো’র যে সেচ সুবিধা দিচ্ছে তা কৃষককের জন্য আশীর্দোস্বরূপ। এই উদ্যোগে এলাকার ছয় থেকে সাত লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছে। সেচ ও উৎপাদন খরচ কমবে আমনসহ বর্তমান সময়কালীন সবজির। আর আমনসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ফলনে বিস্তর সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। এতে আমনের বাম্পার ফলনসহ কৃষিতে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে ভুল্লি বাঁধ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের বাঁধের আওতায় এক হাজার কৃষক সম্পূরক সেচ পাচ্ছেন। আমরা আমন ধান নিয়ে অনেক বেশি দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম৷ আর এবার যখন বৃষ্টি হওয়া দরকার তখন আমরা বৃষ্টি পাইনি। তবে সম্পূরক সেচের মাধ্যমে আমিসহ আমাদের এখানকার কৃষকরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন। আর কৃষিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলার টাংগন, বুড়ি ও ভুল্লি বাঁধ সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, আমন জমিতে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা দারুণভাবে লাভবান হচ্ছেন৷ আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের পাশে থাকার। সম্পূরক সেচের মাধ্যমে বড় অঙ্কের একটি জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। এ সাশ্রয় একদিকে কৃষকের উৎপাদন কমাচ্ছে, অন্যদিকে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। এ ছাড়া সরকারের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রভাব কৃষকদের মধ্যে পড়েছিল, তা এ সেচ প্রকল্প ও সেচ সুবিধায় অনেকটাই কমবে বর্তমানে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ অফিসার রফিউল বারী বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। খরা মোকাবিলায় আমরা আমন ধানের জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি৷ আমরা মনে করছি এর মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষিতে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। এ সরকার কৃষি ও কৃষকের কথা ভেবেই এব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এ সেচ প্রকল্পের ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা কম খরচে আমন ও বোরোসহ সবজিব ফল ও ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। এতে উৎপাদন খরচ কমবে। লাভবান হবে এ অঞ্চলের কৃষি কৃষক। আর কৃষি ও কৃষকরা লাভবান হলেই আমাদের এ প্রকল্পের স্বার্থকতা বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভুল্লি ও বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্প সরকারের একটি আশীর্বাদ কৃষকদের জন্য। এ প্রকল্পের ফলে এ এলাকার লাখ লাখ কৃষক স্বল্প বা বিনা খরচে পানি পাবেন। সেচ সুবিধা পাবেন। এর ফলে এসব এলাকার আমন, সবজিসহ সব ধরনের ফল ও ফসলের উৎপাদন বাড়বে। লাভবান হবেন কৃষক ও কৃষি।