ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশক ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। যেকোনো ফসল চাষে কৃষক প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ব্যবহার করছেন কীটনাশক। এদিকে কীটনাশকের ব্যবহার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের। তবে কোথায় কোন ফসলে কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে তার হদিস নেই উইংটির।
উইংয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান- ধান, শাকসবজি ও ফলসহ কোন ফসলে কী পরিমাণ বা কোন অঞ্চলে কত পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে, তার হিসাব থাকা দরকার।
তারা বলেন, আমরা চাচ্ছি কৃষক ফসলে কখন, কোন ধরনের ও পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, তা ব্লক সুপারভাইজারদের থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে প্রয়োগ করবে। তাহলে অযথা কীটনাশক ব্যবহার কমবে। তবে বিষয়টির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের ম্যানেজার ও কৃষিবিদ দেবাশিষ চ্যাটার্জি বলেন, প্রেসক্রিপশনের দায়িত্ব এককভাবে ব্লক সুপারভাইজারদের দেওয়া ঠিক হবে না। বরং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।
বাংলাদেশ অর্গানিক এগ্রিকালচার নেটওয়ার্কের (বিওএএন) সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ২০ বছর পূর্বে একজন কৃষক তার দুই বিঘা জমিতে বছরে দুই-তিনটা ফসল উৎপাদন করতেন। তখন দুই সপ্তাহে একবার বালাইনাশকের ব্যবহার করা হতো। এখন ক্রপিং ইনটেনসিটি বাড়ায় সপ্তাহে দুই-তিনবার বালাইনাশক দিচ্ছেন। এসব প্রয়োগের নিয়মও কেউ অনুসরণ করছে না।
বালাইনাশকের প্রকার ও পরিমাণ
প্রধানত বালাইনাশকের প্রকার তিনটি। পাবলিক হেলথ পেস্টিসাইড, এগ্রিকালচার ও বায়ো-পেস্টিসাইড। সেগুলোকে আবার বালাইনাশকের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ৮ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশক, ইঁদুরনাশক, কৃমিনাশক, মাকড়নাশক, শৈবাল ও শামুকনাশক ইত্যাদি। দেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বালাইনাশকের ব্যবহার ছিল ২০০৮ সালে। তখন ব্যবহার হয়েছিল ৪৮ হাজার ৬৯০ দশমিক ১৯ মেট্রিক টন। আর ২০২৩ সালে ৩৯ হাজার ১৫৭ এবং ২০২৪ সালে ৪০ হাজার ৮৩২ টন। অর্থাৎ ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বালাইনাশকের ব্যবহার কমেছে ৭হাজার ৮৫৮ দশমিক ১৯ টন।
কোথা থেকে আমদানি
দেশে বালাইনাশক আমদানি হয় চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, জাপান, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। তার মধ্যে ৬০-৬৫ শতাংশই আমদানি হয় চীন থেকে।
কীটনাশকের ব্যবহার সম্পর্কে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনটোমলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, আমাদের দেশে বছরে প্রতি হেক্টর জমিতে ৩.৮ কেজি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার হয় বাংলাদেশে ও কম পাকিস্তানে। তিনি বলেন, ধানে ১৫০ ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে, সেখানে মাত্র ৫টি পোকা ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাইদুজ্জামান বলেন, দেশে বছরে বালাইনাশকের বাজার ৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, আর বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ, তাই কৃষিকে কীভাবে আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করা দরকার।