মেহেদী আল আমিন
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:১৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যের উৎপাদন পাঁচ কোটি টন ছাড়িয়েছে; যা এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
সরকারি প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে মোট পাঁচ কোটি চার লাখ ২৬ হাজার টন দানাদার ফসল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে চার কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার টন চাল (ধানকে চালে রূপান্তর করে), ৭৩ লাখ ৯৯ হাজার টন ভুট্টা এবং ১১ লাখ ১০ হাজার টন গম।
এর আগের অর্থবছরে দানাদার শস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল চার কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার টন।
অধিদপ্তর বলছে, গত অর্থবছরে ফলন হেক্টর প্রতি বেড়েছে; অর্থাৎ প্রথমবারের মতো ফলন হেক্টর প্রতি চার টন অতিক্রম করেছে। এ অর্থবছরে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে এক কোটি ১৬ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে; যা আগের বছরের চেয়ে ৪৬ হাজার হেক্টর কম।
তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদিত ধানের মধ্যে বোরো দুই কোটি ২৬ লাখ ৮ হাজার টন, আউশ ২৭ লাখ ৯৩ হাজার এবং আমন উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টন।
কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চাল সাধারণত আমদানি করা যায় না। অন্যান্য দেশে চালের ফলন তেমন নেই। তাই ধান চাষের জমি কমানোর সুযোগ নেই।’
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়ে ভুট্টার ফলনও বেড়েছে। ছয় লাখ ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৭৪ লাখ টন ভুট্টা ফলিয়েছেন কৃষকরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফলনের পরিমাণ ছিল ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টন।
এবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১০ দশমিক ৯১ টন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
একই অর্থবছরে গম উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ১১ হাজার টন। চাষ হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে।
তবে আগের অর্থবছর থেকে গতবার গম চাষের জমি এবং ফলন কিছুটা কমেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ লাখ ৭২ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছিল। চাষ হয়েছে তিন লাখ ১২ হাজার হেক্টর জমিতে।
এর ব্যাখ্যায় অধিদপ্তরের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘গমের জমিতে ভূট্টার চাষ বাড়ছে। দুটোই আমদানি করা যায়। তবে মোট দানাদার ফসলের জমি কমানোর সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গম চাষের মতো পর্যাপ্ত উঁচু জমি আমাদের নেই। তা সত্ত্বেও গমের উৎপাদন কমানো যাবে না, যাতে আমদানি স্থিতিশীল রাখা যায়। সেক্ষেত্রে গবেষণা ও জাত উন্নয়নে নজর দেওয়া উচিত।’
তবে তিনি মনে করেন, ‘গম ও ভুট্টা আমদানির বিকল্প সোর্স থাকা দরকার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের সে শিক্ষা দিয়েছে।’