× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সমুদ্রে আমাদের সম্পদ এখনও অজানা: মৎস্য উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:১১ পিএম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪৩ এএম

সমুদ্রে আমাদের সম্পদ এখনও অজানা: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সমুদ্রে বাংলাদেশের কী ধরনের সম্পদ রয়েছে তা এখনো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদ নিরূপণ ও চিহ্নিত করে তা কাজে লাগাতে হবে। আর এজন্য মেরিন স্পেশাল প্লানে (এমএসপি) যে পরামর্শ এসেছে সেগুলো মূল্যায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মেরিন স্পেশাল প্লান (এমএসপি) ওয়েব জিআইএস প্লাটফর্মের চূড়ান্ত ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কর্মশালাটির আয়োজন করে মৎস্য অধিদপ্তরের সাস্টেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিসারিজ প্রজেক্ট।

উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বর্তমানে মেরিন ফিসারিজ ও ডিপ সি ফিসারিজের সম্ভাবনাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন আরো গভীরভাবে কাজ করতে। কেননা আমাদের মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদে কাজ করলেও গভীর সমুদ্র মৎস্যসম্পদ নিয়ে বেশি কাজ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, মৎস্যজীবীদের টিকিয়ে রাখতে না পারলে মাছের উৎপাদন বাড়লেও তা আহরণ করার কেউ থাকবে না। এজন্য মৎস্যজীবী ও আনুষঙ্গিক খাতের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা করতে হবে, তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ-প্রতিবেশ তথা প্রাণ-প্রকৃতিকে নষ্ট করে কোন উন্নয়ন হবে না বলে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা এমন উন্নয়ন চাই না যেখানে প্রাণ-প্রকৃতি নষ্ট হয়। তাই আমরা যত উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা করি না কেন সেখানে পরিবেশগত ও সামাজিক ভারসাম্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। কোনভাবেই প্রাণ-প্রকৃতিকে নষ্ট করা যাবে না।

উপদেষ্টা বলেন, মাছের চরিত্র বোঝে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। কেননা সব মাছের স্বভাব-চরিত্র, কাজ, খাদ্যাভ্যাস এক না। যে মাছের জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা দরকার তা করতে হবে। কেননা ইলিশ যেখানে থাকে বা যে ধরনের খাবার খায় তাতো অন্য মাছ খায় না। তাই তার জন্য একটি পরিবেশ দরকার।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছি। আরো আগে সমুদ্রের সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারতাম কিন্তু হয়নি। আর যেন সময় নষ্ট না হয়। আর সম্পদ সম্পর্কে না জানার কারণে সঠিক পরিকল্পনা নিতে পারছি না। সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকতে হলে সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। আর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণা করছে। এসব তথ্যগুলো একত্রিত করতে হবে। সেসব নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করব। তাছাড়া বেসরকারিখাতওকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভকে রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চকোরিয়ার প্যারাবনকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুন্দরবনের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এসব কী ফেরত পাওয়া যাবে? এসবের অর্থনৈতিক মূল্য নেই?

কর্মশালায় আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা জরুরি। এ খাতে অংশীজন ও তাদের দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সচিব বলেন, দেশের সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ জরুরি, বিশেষ করে একটি “অল ওয়েদার ভেসেল” থাকা প্রয়োজন, যা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে সারা বছর ব্যবহার করা যাবে।

জিয়া হায়দার বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক জলসীমায় বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ স্থায়ীত্বশীল ও সমন্বিত ব্যবহার, ওশেন ইন্ডাস্ট্রি’র বিকাশ সাধন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ সাধনের জন্য সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প ২০২২ সালে  মেরিন স্পেশাল প্লান প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করে। মেরিকালচার এবং কোস্টাল একুয়াকালচার জোনিং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রকল্পের গ্রান্ট উইন্ডো এর আওতায় একশন রিসার্চ বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর মেরিন স্পেশাল প্লানটির প্রাথমিক ভ্যেলিডেশন চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। সংশোধিত ও পরিমার্জিত এমএসপিটি ২য় দফায় ২৫ জুন মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএফডিসি, বিএফআরআই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভ্যেলিডেশন কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সংশোধিত মেরিন স্পেশাল প্লানটি চূড়ান্ত ভ্যালিডেশনের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কেবিনেট ডিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/সংস্থার উপস্থিতিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সংস্থার সভায় তুলে ধরা হয়।

ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম বলেন, ইইজেটের বাইরে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত টুনা ধরার ব্যাপারে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের দুটি জোন রয়েছে-আর্টিফিশিয়াল ও ইকোনমিক ফিসারিজ জোন। আমাদের সি উইড কালচার বেশি নেই। মহেশখালীতে থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত চ্যানেলটি সে ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী। একেক প্রজাতির মাছ একেক স্থানে ও একেক সময়ে খাবার খায়। জীবনযাপন করে। তাদের স্বভাব চরিত্র বোঝে কাজ করতে হবে। 

কর্মশালায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নৌ পরিবহন অধিদপ্তর, নৌ বাণিজ্য দপ্তর, 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিট, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়

আইডব্লিউএম, ডব্লিউসিএস, আইইউসিএন, স্পারসোসহ বিভিন্ন সেক্টর।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা