আরএস মাহমুদ, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:২৭ পিএম
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দুই ভাইয়ের গড়ে তোলা মেসার্স হক এগ্রো ফার্ম। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব খিতাপচর গ্রামে পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এক দৃষ্টিনন্দন সমন্বিত ফল বাগান। দুই তরুণ উদ্যোক্তা- তানভীরুল হক ইমন ও সাইদুল হক তুহিন গড়ে তুলেছেন ‘মেসার্স হক এগ্রো ফার্ম’ নামের এই খামার। প্রায় ৮ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলমূল, সবজি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামার।
বড়ই, আম, পেয়ারা, মাল্টা, লেবু, সফেদা, পেপে, কলা, কামরাঙা, নারিকেল, সুপারি, কমলাসহ প্রায় তিন হাজারের মতো ফলদ বৃক্ষের সমন্বয়ে গড়া হয়েছে বাগানটি। একইসঙ্গে চাষ হচ্ছে মৌসুমি সবজি ও মাচা পদ্ধতিতে লাউ। জলাবদ্ধতা ঠেকাতে জমি উঁচু করে এবং আইল তৈরি করে রোপণ করা হয়েছে গাছ।
শুধু ফলচাষ নয়, বাগান ঘিরে গড়ে উঠেছে গরু-ছাগলের খামার, হাঁস পালন এবং পুকুরে মাছ চাষ। প্রতি কোরবানি ঈদে তারা বিক্রি করেন অর্ধশতাধিক গবাদিপশু।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র দুই একর জমিতে শুরু হয় এই যাত্রা। বগুড়া ও রংপুর থেকে সংগ্রহ করা চারা রোপণ করে, ইমন ও তুহিন কৃষির প্রতি তাদের ভালবাসা ও প্রচেষ্টা দিয়ে বদলে দেন পতিত জমির চেহারা। আজ তাদের সাফল্য দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা।
তানভীরুল ইসলাম ইমন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় থেকেই ভাবতাম, অনাবাদি জমি কীভাবে কাজে লাগানো যায়। ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে শেখা শুরু করি। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এগিয়ে যাই।’ তিনি জানান, চলতি মৌসুমে বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার মতো ফল বিক্রি করেছেন। বিষমুক্ত চাষ নিশ্চিত করতে বাগানে কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না; নিজেদের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট সারই ব্যবহার করা হয়, যা অন্যান্য কৃষকের কাছেও বিক্রি হয়।
তার ছোট ভাই সাইদুল হক তুহিন বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে আমরা ফল বিক্রি শুরু করি। কোনো বাজারে নয়, নিজেরা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি। অনেকে সরাসরি বাগান থেকে কিনে নিয়ে যান।’
বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, পুরো এলাকাটি ছিল পতিত, ডোবা ও জঙ্গলাকীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ না হওয়ায় জমিতে প্রচুর উর্বরশক্তি ছিল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে পেয়ারা, বড়ই, আমের চারা ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু চারা তারা সংগ্রহ করেছেন। তাদের আগ্রহ, চেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তিতে এখন বড় সাফল্য দেখিয়েছেন তারা।’
২০২৫ সাল থেকে এসডিএফ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই খামার এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তরুণ-তরুণীরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাও উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালপাড়জুড়ে সাজানো গাছের সারি, ঝুলে থাকা ফল, মাচায় লাউ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ঘর। বিকাল হলেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ এসে ভিড় করে বাগান দেখতে, ফল কিনতে ও চারা সংগ্রহ করতে।
তানভীরুল হক ইমন ও সাইদুল হক তুহিন শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাননি, বদলে দিয়েছেন এলাকার কৃষিচিত্রও।