প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৩ পিএম
রবিবার রাজধানীর ফার্মগেটে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা। প্রবা ফটো
মাটির পুষ্টি উপাদান হ্রাসের ফলে ফসল উৎপাদন ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিরুপণে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. জাকির হোসেন।
রবিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) আয়োজিত ‘অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক, আর্থিক ও কারিগরি কার্যক্রম বাস্তবায়নে কৌশল’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন,‘আমাদের জমির পুষ্টিগুণ, বৈজ্ঞানিক উপাদান ও ক্ষয়িঞ্চু উপাদানগুলোর প্রভাব বিশ্লেষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব, পানির ব্যবহার ও মাটির অবক্ষয় রাষ্ট্রের জন্য কতটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নির্ণয় জরুরি।’
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি হয়, জাতি কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।’
মাটির ক্ষয়, নাইট্রোজেনের ঘাটতি, ডাল ও ধঞ্চা চাষের পতন, লবণাক্ত জমিতে উপযোগী ফসল চাষে অবহেলার কথাও তুলে ধরেন অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, ‘এক ফসলে সীমাবদ্ধ না থেকে বহুমুখী চাষাবাদের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলে মুগডালসহ লবণ সহনশীল ফসল উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের সম্পর্ক নিয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব খাদ্য উৎপাদন করছি তা পরিবেশ ও মাটির জন্য ক্ষতিকর কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এসআরডিআইর মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রামের ড. মো. আফসার আলী এবং রংপুরের মো. আব্দুল হালিম।