প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ১৭:২৮ পিএম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উদ্ভাবনী অভিযোজন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হলেও, তা বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাসের বিকল্প হতে পারে না।
নোয়াখালী ও ফেনীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জটিল নদীপ্রবাহ এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয় বন্যা প্রতিরোধব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। অভিযোজনেরও সীমা আছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা অভিযোজন করতে পারি, ধ্বংসের আগে।
শনিবার (২৬ জুলাই) ব্র্যাক সিডিএম, সাভারে অনুষ্ঠিত ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম ২০২৫-এ ‘পলিসি পারসপেক্টিভ অন ক্লাইমেট অ্যাডাপ্টেশন ইন এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এন্ড লাইভস্টক’ শীর্ষক সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপদেষ্টা বলেন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান মানে হওয়া উচিত নদী, বন আর খাল রক্ষা; শুধু কার্বন অফসেট হিসাব করার জন্য গাছ গোনা নয়, যখন নির্গমন কমানোর আন্তরিক প্রতিশ্রুতি অনুপস্থিত।
তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্যকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এখন সময়ের দাবি।
কৃষিখাতে দুর্বলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি তামাক ও ক্যাসাভা চাষ সম্প্রসারণের মতো ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ করে জনগণের জ্ঞান ও অংশগ্রহণভিত্তিক পুনর্জাগরণমূলক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাটাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য, বলেন তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অভিযোজনভিত্তিক অর্থায়নের বণ্টনে তৃণমূল, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক ও জনগণের মধ্যে দুইমুখী যোগাযোগ দরকার। তিনি অভিযোজন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে নেতৃত্বের আসনে বসানোর আহ্বান জানান।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে সংস্কার আনা এবং সমন্বয় ও অর্থবণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে নতুন প্ল্যাটফর্ম যেমন বিসিডিপি চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি গাছ সংরক্ষণ আইন, বিদ্যালয়ভিত্তিক পুনরোপণ কর্মসূচি ও ভূমি সংরক্ষণ উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোকপাত করেন এবং প্রকৃতিকে সম্মান জানাতে মনোভাবগত পরিবর্তনের উপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নান, ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন।