× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উত্তরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা একশ দিনের আউশ ধান

মেরিনা লাভলী, রংপুর

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৫ ১০:০৪ এএম

উত্তরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা একশ দিনের আউশ ধান

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি ব্যবস্থায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ১০০ দিনের আয়ুষ্কালসম্পন্ন আউশ ধান। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত খরাসহিষ্ণু ও স্বল্প খরচে উৎপাদনযোগ্য বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা পতিত জমিকে আবাদযোগ্য করে তুলছেন। ভুট্টা কাটার পর আমন রোপণের আগ পর্যন্ত যে জমি অনাবাদি থাকতÑ সেই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন অতিরিক্ত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। ফলে ফসলের নিবিড়তা ও উৎপাদন উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসছে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খরা সহিষ্ণু ও স্বল্পমেয়াদি জাতের আবাদ উত্তরের কৃষকদের জন্য হতে পারে একটি টেকসই সমাধান। পতিত জমির কার্যকর ব্যবহারে এই উদ্যোগ দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তাতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনা রংপুর উপকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে। স্বল্প খরচে আবাদ হওয়া ভুট্টার ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা এ ফসল আবাদে ঝুঁকেছেন। তবে এপ্রিল মাসে ভুট্টা কাটার পর থেকে আমন রোপণ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জমি পড়ে থাকত। এই পতিত সময়টিকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিনা। খরাসহিষ্ণু ও স্বল্প খরচে আবাদযোগ্য আউশ ধানের জাত বিনা-১৯ ও বিনা-২১ ধান মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ শুরু করেছে তারা।

বিনা ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের ৩০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ৬ টন ধানের বীজ, সার, কীটনাশক এবং আবাদ বিষয়ক কলাকৌশল বিতরণ করেছে। কৃষকরা বলছেন, এসব জাতের ধানে পানি, সার ও ওষুধ কম লাগে এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপও তুলনামূলক কম। এ ছাড়া এ ধান থেকে সরু ও লম্বা চাল পাওয়া যায়, যা বাজারে জনপ্রিয়।

বিনামূল্যে ৬ টন ধানের বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদানসহ ফসল আবাদের কলাকৌশল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রংপুর বিভাগের ৩০০ জন কৃষকের মাঝে। বিনার পরামর্শে স্বল্প সার, স্বল্প সেচ ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা করে কৃষকরা ১০০ দিন আয়ুষ্কালসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল এ দুটি জাতের ধান ঘরে তুলতে পারছে। পতিত জমি ব্যবহার করে ধান উৎপাদনের ফলে তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যান্য ধানের চেয়ে এ জাতের ধানে রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে কম। মুড়ি তৈরির জন্য বিনা-১৯ জাতের ধান খুবই উপযোগী। বিনা-১৯ জাতের ধান হেক্টরপ্রতি গড়ে ৩ দশমিক ৮৪ টন ও বিনা-২১ জাতের ধান হেক্টরপ্রতি গড়ে সাড়ে চার টন উৎপাদন হয়।

রংপুর নগরীর বড় রংপুর এলাকায় ৬৬ শতক জমিতে কৃষক শাহজালাল হোসেন প্রদর্শনী আকারে বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাতের আউশ ধান চাষ করেছেন। বিনা-১৯ ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে এবং ঘরে তোলার উপযোগী হয়েছে। শাহজালাল বলেন, ‘ভুট্টার পর জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। এবার বিনার পরামর্শে ধান লাগিয়েছি। ফলন ভালো হচ্ছে। এই ধান আবাদ করতে আমার পানি, সার, ওষুধ কম লেগেছে। এতে বছরে তিনটি ফসল ফলাতে পারছি, যা আমার আয়ের পরিমাণ বাড়াবে।

আরেক কৃষক রশিদুল ইসলাম জানান, আমার জমিও অনেক সময় পতিত থাকত। এবার দেখলাম আউশ ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ধানগুলো অনেক সরু ও লম্বা। আগামী বছর আমিও এই জাতের ধান লাগাব।

বিনা রংপুর উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রংপুর বিভাগে আউশ ধানের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমরা ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে কৃষকদের আউশ ধানের জাত বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাতের ধান সম্প্রসারণে কাজ করছি। এরমধ্যে কৃষকদের সহায়তা প্রদানসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব প্রদর্শনী প্লটেই ফলন সন্তোষজনক। আশা করছি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাব ও কৃষকরা লাভবান হবেন।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, রংপুর জেলায় আউশ ধানের আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার হেক্টরে। আমরা প্রণোদনার মাধ্যমে বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাত সম্প্রসারণ করছি। এই ধানের জীবনকাল মাত্র ১০০ দিন এবং খরায়ও ভালো হয়। বিঘাপ্রতি ১৬-১৭ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা