প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৫ ১৬:৩৯ পিএম
প্রবা ফটো
মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোপ্রিত। চাচা কমল কুমার সাহার হাত ধরে খামারবাড়িতে জাতীয় ফলমেলায় এসেছে। জীবনের প্রথম কোনো ফলের মেলায় পা রেখেছে মনোপ্রিত। মেলাটি কেমন লাগছেÑ জানতে চাইলে সে জানায়, আগে শুধু বইয়ের পাতায় এত এত ফলের ছবি দেখেছে। আজ এই প্রথম একসঙ্গে অনেক জাতের ফল দেখছে। এতে ভালো লাগছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বরে তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে। ‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’Ñ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
জাতীয় ফলমেলার এবারের উপস্থাপনায় একটু ভিন্নতা আনা হয়েছে। মেলার প্রবেশপথে বিশালাকার শাপলা ফুল। ফুলটির চারপাশ সাজানো হয়েছে থোকা থোকা কাঁচা-পাকা খেজুর (সৌদি), ডাব, কাঁঠাল, আম, আনারস, বেল, তরমুজ, বাতাবিলেবু, কলা, পেয়ারা, তাল দিয়ে। শাপলার পাপড়ির নিচের পানিতে ভাসছে করমচা, লটকন, কদবেল, আম, খেজুর, শসা। শাপলার পাপড়ির ওপর কাঁঠাল, ড্রাগন ও লেবু দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রথম দেখাতেই যেকোনো দর্শনার্থীর মনের শিহরন জাগাবে এই অভ্যর্থনা।
মেলায় একটু সামনে অগ্রসর হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টল। এই স্টলটিতে চোখ ধাঁধানো সাজ এনে ফলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানো হয়েছে। বিশাল একটি আনারসের খোঁপের ভেতরে রাখা হয়েছে নানা জাতের ফল। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে অগ্নিস্বর আম, তিন ফল, ড্রাগন, ডেউয়া, কহিতুর জাতের আম, ননিফল, বেতফল, পাহাড়ি ব্রেডফ্রুট, চাঁপালিশ, মটমটিয়া, কোকো চকলেট সাভার, তিশাফল ইত্যাদি।
স্টলটি দেখভাল করা মো. মফিজুল হক বলেন, আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব ফল সংগ্রহ করেছি প্রদর্শনের জন্য। বিক্রি করা হয় না। তবে ফলের প্রতি মানুষের ভালো আকর্ষণ হচ্ছে। অনেকেই এসব ফল কিনতে চাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্টলে রয়েছে পশুর ফল, জামরুল, অড়বরই, আলুবোখারা, খুদে জাম, সফেদা, মিসরীয় ডুমুর, ভেরিকেটেড মাল্টা, গোলফল, করোসল। আমের প্রজাতির মধ্যে রয়েছেÑ চিয়াংমাই আম, ডাবল ক্যাপ্টেন, ইট আর টু, হানিউড ইত্যাদি। রয়েছে অ্যাভোকাডো, জারা লেবু, রাম্বুটান, কাঁঠালি লিচু, বেদানা লিচু, কাঠবাদাম, সাদা জাম, ডেউয়া, রিটা ফল, আঁশফল, তৈকর, শান্তোল, প্যাসন ফ্রুট, গুটগুইট্যা গুলা, আদা জামির, চাপালিশ, ধতুল ফল (খুলনা), কারিপাতা, বিলিম্বি, কাউফল, কোকোয়া, বিলাতি গাব, লুকলুকি, পানবিলাস, মেহেরপুরের সরফি ফল, চেরি, কাগজিলেবু, স্ট্রবেরি, কাঁকড়া ফল, গরান ফল, শান্তোল, ভেরিকেটেড, লতা, ডকমাই আম, সৌদি বারহি, সুক্কানি ও আজওয়া খেজুর, সাতকড়া, শরিফা, হরকচা। স্টলটিতে পাহাড়ি, উপকূলীয় কিছু ফলের সমাহার দেখা গেছে। তার মধ্যে কাঁকড়া ফল, গরান, শান্তোল, গোলফল অন্যতম।
এ ব্যাপারে বিএডিসির উপপরিচালক ড. আজিজা বলেন, আমরা পাহাড়, সমুদ্র উপকূল ও সুন্দরবনের বেশকিছু ফল এই প্রথম মেলায় এনেছি। এসব আনার উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ মানুষের যাতে এসব ফলের প্রতি আগ্রহ জন্মে। কেননা স্থানীয়ভাবে এসব ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টায় মেলাটি উদ্বোধন করেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের ৬৪ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ মেলা হবে। দেশি ফল খেলে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।