রহিম শুভ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫ ১৬:৩৮ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৫ ১৬:৪০ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন জাতের আমের বাগান করে সফল হয়েছেন বাগান মালিকরা। গত রবিবার সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের সেনপাড়া থেকে তোলা। প্রবা ফটো
বহুদিন ধরেই সূর্যপুরী আমের জন্য বিখ্যাত ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলার রয়েছে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় ও ২২০ বছরের পুরনো সূর্যপুরী আমগাছ, যা আজও নিয়মিত ফলন দিয়ে যাচ্ছে। এ বছর জেলায় আমের ফলন ভালো হয়েছে, গাছের ডালে ডালে ঝুলছে পরিপক্ব আম। কয়েকদিনের মধ্যেই এই আম বাজারে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।
জেলার পাঁচ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে আমের বাগান। ঠাকুরগাঁও সদরসহ বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এবার প্রচুর আম ধরেছে। বাগানিদের মতে, এ বছর শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় আমের ক্ষতি হয়নি, ফলে ফলন ভালো হয়েছে।
নতুন জাতের আম চাষে সফল হয়েছেন সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের আলতাফুর রহমান। তিনি জানান, তার ৪ একর জমির বান্দিগৌড়ী আম বাগানে এবারই প্রথম ফল এসেছে। প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। দেখতে আকর্ষণীয়, খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। তিনি আশা করছেন, এবার তার আম বিক্রি হবে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো, প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা দরে।
একই জাতের আম চাষ করে সফল হয়েছেন সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বিশাল রহমান। তিনি বলেন, ৫ বছর আগে ২ একর জমিতে বান্দিগৌড়ী আমের বাগান শুরু করেন। গত বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আম বিক্রি করেছেন। এবার ফলন ভালো, বিক্রি হতে পারে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো। তার বাগানের আমের ওজন ৫০০-৭০০ গ্রামের মধ্যে।
অন্যদিকে, বালিয়াডাঙ্গীর হরিনমারির ২২০ বছরের প্রাচীন সূর্যপুরী আমগাছের মালিক নুরুল হক জানান, এবার ফলন বেড়েছে। গত বছর যেখানে ৭০ মণ আম পেয়েছেন, এবার পাচ্ছেন প্রায় ৪০০-৫০০ মণ। এই গাছের আমের কেজি বিক্রি হয় ১০০ টাকা দরে, যা থেকে আয় হতে পারে ১৫-২০ লাখ টাকা।
ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির আম ব্যবসায়ী আকতাবর রহমান বলেন, এখনও পুরোদমে আম বাজারে ওঠেনি। তবে আগাম জাতের আম বাজারে আসতে শুরু করেছে।
সদর রোডের ব্যবসায়ী নাইমুর ইসলাম বলেন, বান্দিগৌড়ী ও কাটিমন জাতের আম সাইজে বড় হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশি। প্রতি কেজিতে পাওয়া যায় দুটি আম।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, সূর্যপুরী আম ছাড়াও এখন জেলার কৃষকরা মল্লিকা, বান্দিগৌড়ী, কাটিমনসহ নতুন জাতের আম চাষে এগিয়ে আসছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আম বিক্রির সম্ভাব্য পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা।