অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ১০:২৫ এএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
বগুড়া সদর উপজেলার গোবরধনপুর গ্রামে নিজ বাগানে ফুলের পরিচর্যা করছেন উদ্যোক্তা আফছার আলী
বিদেশি ফুল জারবেরা চাষ করে বগুড়ার এক প্রান্তিক কৃষক এখন পরিচিত হচ্ছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। সদর উপজেলার গোবরধনপুর গ্রামের আফছার আলী গত তিন বছরে রঙিন এই ফুল চাষ করে আয় করেছেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। ভারতের পুনে থেকে উন্নত জাতের চারা এনে মাত্র ১ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা এই প্রকল্প তাকে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক সাফল্য। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবে এখন এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় তিনি।
আফছার আলীর বাগানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি জারবেরা ফুল উৎপাদিত হচ্ছে। রঙ অনুযায়ী সারি করে রোপণ করা চারাগাছগুলো থেকে লাল, হলুদ, কমলা, সাদা, বেগুনি, গোলাপিসহ মোট নয়টি রঙের ফুল সংগ্রহ করা হয়। তিনি প্রতিটি ফুল পাইকারি বাজারে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব ফুল।
আফছার জানান, প্রতিটি ফুলগাছ থেকে বছরে ৮০ থেকে ৯০টি ফুল পাওয়া যায় এবং গাছের আয়ু প্রায় চার বছর। গাছ থেকে তোলার পর ফুল ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে। আবার গাছে ফোটা অবস্থায় ফুল ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সুন্দর থাকে, ফলে বাজারে এর চাহিদাও বেশি।
তবে এত সফলতার মাঝেও শেড কাঠামো নিয়ে এখন চিন্তিত আফছার আলী। তিনি বলেন, ‘যে পলিনেট ব্যবহার করে ২৫ বছরের পরিকল্পনায় চাষ শুরু করেছিলাম, সেটির শেড চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ছেÑ বাইরে যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তাহলে ভেতরে তাপমাত্রা হয় ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি।’
এতে ফুলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং রোগবালাই বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় বিষয়টি কৃষি অফিসে জানিয়েছি, কিন্তু তারা বলছে সাহায্য সম্ভব নয়, সবকিছু নিজ উদ্যোগেই করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে প্রকল্পটি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তবে এখন পর্যন্ত এই ফুলচাষ প্রকল্প থেকে তিনি ৮-১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান বলেন, ‘আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে আছি। আফছার আলীর বিষয়টি একটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত। তাই প্রকল্পের বাইরে গিয়ে কোনো সহযোগিতা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তাকে নানা সময়ে ফুলচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছি।’