মহসিন রেজা রুমেল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১২:০১ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৫ ১২:০২ পিএম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে চলতি মৌসুমে বোরো ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক মণ ধানের বাজারদর যেখানে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, সেখানে একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে এক হাজার থেকে এগারশ টাকা, তাও দুই বেলা খাবারসহ। কৃষকদের ধান বিক্রি করে খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উভয় সংকটে পরেছে এ অঞ্চলের কৃষকরা।
প্রচণ্ড তাপদাহ ও বাজারে শ্রমিক সরবরাহ কম থাকায় মজুরি বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তবুও চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক মিলছে না, ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার কাজে নেমেছেন।
উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কান্দির গ্রামের কৃষক ছোবহান মিয়া বলেন, আমার প্রায় ৪-৫ বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিক দরকার। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে এবার শ্রমিক কম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এগারশ টাকার নিচে কেউ রাজি হচ্ছেন না। আর এই মজুরিতে খরচ উঠানো প্রায় অসম্ভব।
অন্যদিকে শ্রমিক ইনতাজ আলী বলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ধান কাটার কাজ করা খুব কষ্টকর। তাছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই বাজারে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে বেশি মজুরি নিতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও ধান কাটা, মাড়াইয়ের শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক মিলছে না। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে। হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে ধান চাষে তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এখন ধান ঘরে তুলতে আরও ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে শ্রমিকের পেছনে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। এবারের মৌসুমে ৭ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ টন। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ মাঠের ধান কাটা হয়েছে। তিনি বলেন, একযোগে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তবে এই সংকট মোকাবিলায় উপজেলায় ৫টি কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে, যা দিয়ে কম শ্রমিকে দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব। কৃষকদের এই যন্ত্রের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।