× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদন

মেরিনা লাভলী, রংপুর

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৫ ১২:১৩ পিএম

নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদন

কৃষিতে অনন্য নজির গড়ে তুলেছেন রংপুরের কৃষি উদ্যোক্তা গাওসুল আজম টুটুল। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে তিনি নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদন করে তা ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ, জমির সর্বোত্তম ব্যবহার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে শাকসবজি উৎপাদন ও এর কলাকৌশল ছড়িয়ে দিচ্ছেন টুটুল। ইতোমধ্যে তার এ উদ্যোগ চমক সৃষ্টি করেছে। অন্যদের মধ্যে ফেলেছে ব্যাপক সাড়া। জানা যায়, শিক্ষিত তরুণ টুটুল চাকরির পেছনে না দৌড়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। দুই বছর আগে তিনি রংপুরের বুড়িরহাট সংলগ্ন এলাকায় দুই একর জমির ওপর ‘কৃষি বাজার’ নামে কৃষি খামার শুরু করেন। সেখানে জৈব বালাইনাশাক ব্যবহার করে তিনি বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করেন। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারে একই জমিতে সাথী ফসল উৎপাদন, মাচা তৈরির মাধ্যমে একই স্থানে দুই থেকে তিন ফসল আবাদ করছেন তিনি।

ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ শাকসবজি সরবরাহের জন্য তিনি কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে রংপুর নগরীসহ আশপাশের উপজেলায় দেড়শ কৃষক হাব গড়ে তুলেছেন টুটুল। প্রতিটি হাবে ৫০ জন কৃষক যুক্ত রয়েছে। তার প্রশিক্ষিত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদনে ব্যস্ত। প্রতিদিন প্রতিটি কৃষক হাবের ক্ষেত থেকে তুলে আনা শাকসবজি স্বচ্ছ পানিতে ধুয়ে তা ভ্যানে সজ্জিত করে বাজারে নিয়ে আসা হয়।

কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় নগরীতে ২৪টি ভ্যানের মাধ্যমে সেই সবজি ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কর্মব্যস্ত মানুষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি ঘরে বসে কিনতে পারছেন। নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে ভ্যান থেকে টাটকা ও নিরাপদ সবজি পাচ্ছেন। অন্যদিকে কৃষকরাও কম খরচে তাদের ফসল উৎপাদনসহ ন্যায্যমূল্যে তা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ শালমারার কৃষক আব্বাস আলী বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর মাটি পরীক্ষা করে জমিতে যেটুকু সার দেওয়া দরকার, সেই পরিমাণই দিয়েছি। আগে ক্ষেতে শুধু রাসায়নিক সার দেওয়া হতো। এখন জৈব সার ও কেঁচো সার দিয়ে ফসল আবাদ করি। বরবটি, পটোল, লাউ, কুমড়া, করলার ক্ষেতে কীটনাশকের বদলে ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ কার্ড, আলোর ফাঁদ ব্যবহার করছি। আগে একাই এক ধরনের ফসল আবাদ করতাম। এখন ৫০ জন কৃষকের গ্রুপ করে ফসল আবাদ করছি। কৃষক হাব থেকে বিক্রেতারা ভ্যানে করে ফসল নিয়ে যাওয়ায় বিক্রি নিয়ে সমস্যা নেই।’

সরেজমিন কৃষি উদ্যোক্তা গাওসুল আজম টুটুলের কৃষি খামার ঘুরে দেখা যায়, দোচালা ঘর আকৃতি করে করলা আবাদ করেছেন তিনি। প্রতিটি সারিতে পোকা-মাকড় দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। খামারের দেয়ালে দেয়ালে তুলে দেওয়া হয়েছে করলা গাছ। জাল দিয়ে ঘেরা মরিচ ও টমেটোর ক্ষেত। গ্রীষ্মকালীন টমেটোর গাছগুলোতে থোকা থোকা টমেটো ঝুলে আছে। পানি থেকে গাছ রক্ষায় গোড়ায় পলিথিন বিছানো ও দুই সারির মাঝে ড্রেন করা হয়েছে। টমেটোর ভারে গাছ রক্ষায় বাঁশের বাতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে গাছগুলোকে। বেগুনের ক্ষেতে পোকা-মাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। বেগুন ক্ষেতের পাশে এক শতক জমির ওপরে দুটি মাচা করা হয়েছে। মাচার ওপরের অংশে লাউ গাছ, নিচের মাচায় পুঁইশাকের গাছ এবং সর্বনিচে ছায়া থাকায় বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেতে সেচের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম।

কৃষি উদ্যোক্তা গাওসুল আজম টুটুল বলেন, ‘নিরাপদ সবজি নিয়ে আমি ২ বছর ধরে কাজ করছি। এখন আমার এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাটি পরীক্ষা, পরিমিত সার প্রয়োগ ও বিষমুক্ত উপায়ে শাকসবজি উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট করে যাচ্ছি। সম্প্রতি আমরা অ্যাপের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি বিজ্ঞানের মতো। এখানে কতটুকু খাবার দিলে একটি গাছ ভালো থাকবে, ভালো ফল দেবেÑ এগুলো কৃষকদের বোঝানো ও শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই জমিতে কীভাবে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যায় সেই কৌশল ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা