অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:০০ পিএম
আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে চলতি বছর টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকায় করলার ব্যাপক ফলন হয়েছে। এসব করলা শুধু টাঙ্গাইল নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন করলা চাষে ঝুঁকছেন এই এলাকার কৃষকরা।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ২৩২ হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়। যেখানে উৎপাদন হয়েছিল তিন হাজার ৭০৪ টন করলা। উৎপাদনের অধিকাংশই হয়েছে টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া এলাকায়। এ বছর আবাদ করা হয়েছে ২৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চার হাজার ২৩৪ টন।
সরেজমিনে পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন ফসলি জমির পাশে করলার ব্যাপক চাষ করা হয়েছে। ফসলের পচন রোধে তৈরি করা হয়েছে সারি সারি মাচা। গাছ সুস্থ, সবল রাখতে ও ফলন ভালো পেতে নিয়মিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি দেওয়া হচ্ছে।
চাষিরা জানান, করলা চাষের আড়াই মাস পর থেকে ফলন আসা শুরু করে। এক বিঘা জমিতে (৩৩ শতাংশ) দুই থেকে তিন দিন পরপর প্রায় ১৫ মণ করলা পাওয়া যায়। প্রতি মণ করলা গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। এসব এলাকার উৎপাদিত করলা ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়।
ঘাটাইল উপজেলার শহর গোপিনপুর আশাইরাচালা গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, ‘আগে আমি ৪৫ শতাংশ জমিতে কলা, বেগুন, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষ করতাম। সেই জমিতে এবার করলা চাষ করেছি। এতে সব মিলে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি, প্রায় চার লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারব।’
একই গ্রামের রবি খান বলেন, ‘আমার ৩০ শতাংশ জমিতে করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। এই করলায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হয়।’ কৃষক মেছের আলী বলেন, ‘আমার ৫০ শতাংশ জমিতে করলার চারা রোপণের আড়াই মাস পর ফলন আসা শুরু হয়েছে। প্রায় দুই মাস করলা তুলতে পারব।’
পাইকারি ব্যবসায়ী আকতার আলী ও বিল্লাল হোসেন বলেন, করলার চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সুলভ মূল্যে করলা কেনা যায়। এসব করলা ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করি। এতে আমাদের লাভ ভালোই হয়।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি অফিস জানায়, জেলার মধ্যে ঘাটাইল, মধুপুর, সখীপুর, মির্জাপুরসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় লেবু, বেগুন, সরিষা, কলাসহ বিভিন্ন ফসল নিয়মিত চাষ করা হতো। তবে অল্প সময়ে দ্বিগুণ ফসল পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে এসব এলাকায় করলা চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। করলা চাষ করতে গিয়ে চাষিরা অতিরিক্ত ফসল হিসেবে একই মাচায় অন্যান্য ফসলও চাষ করতে পারছেন। এতে খরচ কমে গিয়ে লাভের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে করলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। কেউ কেউ অধিক লাভের আশায় অন্য ফসল বাদ দিয়ে শুধু করলা চাষে ঝুঁকছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ফসল খুব ভালো হয়। করলা তার মধ্যে একটি। লতাজাতীয় সবজি উঁচু জমিতে ভালো হয়। কৃষক মাচা দিয়ে করলা আবাদ করেছেন। মাটি ভালো হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার করলার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে করলাচাষিদের সকল বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।