এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৪২ এএম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৪৭ এএম
বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে ফুটেছে দুর্লভ ম্যাগনোলিয়া
শুভ্র ম্যাগনোলিয়া। সাদা ও পবিত্র সৌন্দর্যে ভরা এক ফুল। সবুজ পাতার মাঝে শুভ্র ফুলটি যেন নীরব দীপ্তি ছড়ানো চাঁদ। যার দিকে তাকালেই মন হয় শান্ত, হৃদয় হয় প্রসন্ন। খুলে থাকা পাপড়িগুলো যেন করছে আকাশকে আলিঙ্গন করার আহ্বান। বৈশাখের সকালে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে থাকা ম্যাগনোলিয়া হয়েছে আরও আকর্ষণীয়। শুভ্র ম্যাগনোলিয়া যেন এক টুকরো শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে। সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা পাপড়ি মেলে থাকা ফুলটি প্রকৃতির অভিজাত সৌন্দর্যকেই যেন তুলে ধরেছে। যার দিকে একবার তাকালে মন হয় প্রশান্ত, হৃদয় হয় মুগ্ধ।
স্মৃতিকেন্দ্রের দেয়ালঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একমাত্র গাছে ফুটেছে এ অনিন্দ্যসুন্দর ফুল। ১২টি পাপড়ি সাজানো দুই সারিতেÑ উপরেরগুলো ছোট, নিচেরগুলো অপেক্ষাকৃত বড়। ফুলের কেন্দ্রে শম্বুকের মতো আকর্ষণীয় গর্ভমুণ্ড যেন চুম্বকের মতো টেনে নিচ্ছে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি।
বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, রোকেয়ার জন্মভিটার পার্শ্বে স্মৃতিকেন্দ্রে ম্যাগনোলিয়া ফুল ফুটেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুগ্ধ হয়ে এ ফুলের নাম দিয়েছিলেন উদয়পদ্ম। এখন পর্যন্ত গাছে কয়েকটি ফুল ও কলি রয়েছে। এর মধ্যে একটি আজকে ফুটেছে। আকর্ষণীয় এ ফুল ফোটার পর থেকে তাতে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয়েছে। আগামীকাল সকাল হতে হতে ফুলটি বাসি হয়ে যাবে। এ ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
জানা যায়, ম্যাগনোলিয়া ফুল উদয়পদ্ম বা হিমচাপা নামে পরিচিত। তবে ম্যাগনোলিয়াই সবচেয়ে বেশি পরিচিত নাম। এ ফুল ডালের ঠিক আগায় সূর্যের মতো উদয় হয়। তাই হয়তো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ম্যাগনোলিয়ার নাম দিয়েছেন উদয়পদ্ম। ম্যাগনোলিয়ায় বহু বর্ষজীবী ও চিরসবুজ। পাতা দেখতে কাঁঠালের পাতার মতো। তবে কাঁঠালের পাতার চেয়ে বেশি লম্বাটে। পাতার ওপর কালচে সবুজ। দেখতে ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি হয়। পাতাগুলো ডালের ওপর ঊর্ধ্বমুখীভাবে সাজানো থাকে। ফুল ফোটা শুরু হয় বসন্তের শেষ থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত। তবে চলতি গ্রীষ্মকালে এ ফুল ফোটে বেশি। ম্যাগনোলিয়া ফুলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হলো এর কেন্দ্রস্থল। এখানে চমৎকার গড়নের শম্বুকের মতো জননাঙ্গ থাকে। কিছুদিন পর ওই অঙ্গটাই বড় হয়ে ফল হয়। ফলগুলো তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে মুখ করে। ম্যাগনোলিয়ার ইংরেজি নাম লরেল ম্যাগনোলিয়া। এ গাছের আদিনিবাস যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে। এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ম্যাগনোলিয়াগাছ আছে। ম্যাগনোলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের জাতীয় ফুল। এ ছাড়া গ্রীষ্ম ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়া, মেক্সিকো, পশ্চিত ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং মালয়েশিয়ায় ম্যাগনোলিয়া পাওয়া যায়। ম্যাগনোলিয়া বা উদয়পদ্মের পাতা ও ফুল থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া ও বাতজ্বর সারাতে এটি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ বন্য প্রাণী আইন-২০১২-এ ম্যাগনোলিয়া এদেশে সংরক্ষিত উদ্ভিদ, এ গাছ কাটা নিষেধ।