× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গজারিয়া চকে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি বিস্তীর্ণ জমি

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৫৮ পিএম

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৭ পিএম

গজারিয়া চকে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি বিস্তীর্ণ জমি

মানিকগঞ্জের দিঘী ইউনিয়নের গজারিয়া চকে ৫ হাজার বিঘা জমিতে এখনও জমে আছে হাঁটুপানি। কয়েক বছর আগেও এই জমিতে এ সময় সরিষার আবাদ হতো। উর্বর এই প্রতি বিঘা জমি থেকে পাওয়া যেত ৪-৫ মণ করে সরিষা। এই সরিষা তুলেই আবার রোপণ করা হতো বোরো ধান। বোরো রোপণে যে খরচ হতো তা সরিষার কিছু অংশ বিক্রি করেই করা হতো। বাকি সরিষা দিয়ে সারা বছর তেল ভাঙিয়ে চলত সংসার। জলাবদ্ধতায় এখন এটি একফসলি জমি।

ভাটবাউর এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন দুঃখ করে বলেন, গজারিয়া চকে আমার জমি আছে তা ভবতেও কষ্ট হয়। এই জমি থেকে প্রতি বছর দুবার করে ফসল পেতাম। এই সময় সরিষা আবাদ করে বিঘাপ্রতি ৪-৫ মণ করে পেতাম। এখন দেখলে মনে হয় এটি কোনো ফসলি জমি না। বর্ষা চলে গেলেও আমার জমিতে এখন হাঁটুপানি। এই পানি শুকাতে শুকাতে তখন আর সরিষা করা যায় না। শুধু বোরো ধানের আবাদ করতে পারছি।

জমির আইল কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করতে দেখা গেল মুলজান গ্রামের আলী আহমদকে। আইল কেটে যদি পানি সরানো যায় তবে সরিষা আবাদ করা যাবে এই আশায় তিনি কোদাল দিয়ে এই চেষ্টাই করছেন। তিনি বলেন, অগ্রহায়ণ মাস চলছে, এখনও জমিতে পানি থাকলে সরিষার আবাদ করব কী করে। কোনোদিক দিয়েই পানি বের হতে পারছে না।

পৌলী এলাকার আজাহারকে দেখা গেল ডিজেল খরচ করে পাওয়ার পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করতে। এখানে তার ১৩০ শতাংশ জমি রয়েছে পানির নিচে। গত বছরও এভাবে পানি সরিয়ে সরিষার আবাদ করেছিলেন তিনি। এবারও যদি করা যায় সেই আশায়ই তিনি পাম্প বসিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার দেড় বিঘা জমিতে এখনও পানি জমে আছে। জমিতে গজিয়ে উঠছে নানা জঙ্গল। কয়েক বছর আগেও আমরা এ মাঠ থেকে কেউ দুই ফসল, কেউ তিন ফসল পেতাম। এখন সবাই একবার বোরোর আবাদ করতে পারছি। এই জলাবদ্ধতা নিয়ে আমরা মানববন্ধনও করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এ গজারিয়া চকে বর্ষার পানি প্রবেশ করত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের খাল এবং উত্তর সেওতা এলাকার খাল দিয়ে। আবার এই দুই খাল দিয়েই বর্ষা শেষে পানি নেমে যেত। আমরা সরিষা, গোলআলু, সবজিসহ নানা আবাদ করতে পারতাম। এখন সেই খাল দুটিও ভরাট করে তার ওপর রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার নিচ দিয়ে একটি পাইপ বসালেও তার মাথা অনেক উঁচুতে হওয়ায় পানি নামতে পারছে না।

গজারিয়া চকের পানি নিষ্কাশনের লম্বালম্বিভাবে ভরাট করা খালটির পাশে গড়ে ওঠা বসতি। এথানকার বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা দেখেছি বর্ষা এলে তীব্র বেগে এই খাল দিয়ে চকে পানি প্রবেশ করত। আবার বর্ষা শেষে পানি এই খাল দিয়েই বের হয়ে যেত। তখন এই খালটি বেশ গভীর ও প্রশস্থ ছিল। এখন খালে পাইপ বসিয়ে রাস্তা তৈরি করেছে পৌরসভা। এছাড়া খালের সঙ্গে চকে সংযোগ মুখটিও ভরাট হয়ে গেছে। তাই চকে পানি আসা-যাওয়ায় সমস্য হচ্ছে।

দিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার উদ্দিন আহমেদ রাজা বলেন, গজারিয়া চক ছিল তিন ফসলি এবং কিছু অংশ দুই ফসলির জমি। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এছাড়া গত বছর এখানে কৃষিমন্ত্রী এসেছিলেন। এ জলাবদ্ধাতা নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পৌরসভার মেয়র আশ্বাস দিলেও এখনও তার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এই চকে কোথাও এক ফুট, কোথাও আধা ফুট পানি জমে আছে। পানি সরে না গেলে সরিষার আবাদ করতে পারবেন না কৃষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এক ইঞ্চি জমিও যেন খালি না থাকে। তারপরও মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম পাশের গজারিয়া চকটিতে এখনও কোনো ফসলের আবাদ হয়নি। সমস্যা দেখতে এসেছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত রাস্তা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের খালে বাঁধ দিয়ে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে এই এলাকার দেড় হাজার মানুষের প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমিতে এখনও বর্ষার পানি রয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্টের টাকা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ড্রেন করা হয়েছে, তা জমি থেকে কয়েক ফুট উঁচু হওয়ায় পানি বের হচ্ছে না। আমরা তাই পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছি, যাতে সরিষার আবাদ করা যায়। 

তিনি আরও বলেন, দেড় হাজার মানুষের এই ৫ হাজার বিঘা জমিতে প্রায় ৮ কোটি টাকার সরিষা হওয়ার কথা প্রতি মৌসুমে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এলজিইডি, জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা