এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:২৬ পিএম
ফুল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষী-শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
লাল, সাদা, হলুদ রঙয়ের বাহারি গোলাপ ফুটেছে বাগানে। সৌন্দর্য ধরে রাখতে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে গোলাপকে। ফাগুনের আগমনী বাতাসে দোল খাচ্ছে বসন্তের ফুল। বাগানে হাজারও ফুলের কলি। সেথায় ভ্রমর উড়ে বেড়াচ্ছে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে। গোলাপের সাথে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, রজনীগন্ধায় সুশোভিত করছে বাগানকে।
রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জের মুন্সিটারী এলাকার ফুলচাষী শাহিন মাহমুদসহ শ্রমিকদের ব্যস্ততার যেন অন্ত নেই। আসছে বসন্তবরণ, ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়ে বাগানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
শাহিন মাহমুদ বলেন, ‘এই তিনটি দিবস যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাসে হয়। তাই এ মাসকে ঘিরে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। এ বছর ফুলচাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। তাই ফুলগাছে তেমন রোগবালাই দেখা যায়নি। এখন নিয়মিত ফুল পরিচর্যা, পানি, সার প্রয়োগসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমি দুই একর জমিতে গোলাপ, গাঁদাসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকার মতো। ফুল বিক্রি করে চার লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছি। ফুল ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। বাগান থেকে তারা ফুল নিয়ে যাবেন। ফুল বিক্রি নিয়ে কোন সমস্যা হয় না।’
একই এলাকার ফুল চাষী জাবেদ আলী বলেন, ‘গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধার পাশাপাশি কিছু ব্যতিক্রমী ফুল গ্লাডিওলাস, লিলিয়াম চাষের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব ফুলেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই সাথে দামও ভাল পাওয়া যায়। সারা বছরের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে যেহেতু ফুলের চাহিদা কয়েকগুন বেশি থাকে, তাই এ মাসে আমাদের ব্যস্ততা বেশি। বর্তমানে ফুলের বাজার ভাল রয়েছে। ফুল চাষে সরকার সহায়তা প্রদান করলে আমরা আরও এগিয়ে যেতাম।’
নগরীর বুড়িরহাটের ফুল চাষী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভালবাসা দিবসে গোলাপের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। দোকান থেকে প্রতিটি গোলাপ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়। রংপুরে চাষ বাড়ায় যশোর থেকে আর ফুল আনতে হয় না। গোলাপ ফুলগুলো যেন না ফুটে সেজন্য মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। আমিসহ কয়েকজন শ্রমিক ফুল পরিচর্যায় কাজ করছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের তথ্য মতে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, লিলিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা ছোট বড় ২১০টি ফুল বাগানে সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। এ বছর কোটি টাকার ফুল বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ফুল চাষের বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ফুল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অনেক কৃষকদের আমরা ফুল চাষে আগ্রহী করতে পেরেছি এবং তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতি বছর ফুল চাষীর সংখ্যা বাড়ছে। ফুল চাষ এখন অর্থনৈতিক কার্যক্রম নয়, একটি শিল্প ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। রংপুর অঞ্চলের চাষীরা তাদের পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে উত্তরের ফুলের চাহিদা মেটানোসহ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।