ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। আর স্থানীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা দারুণ খুশি।
এ বছর প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ বাদাম উৎপাদিত হয়েছে, যা বাজারে আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি চাষিরা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ করছেন। বাদাম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর চরাঞ্চলে এর আবাদ বাড়ছে।
প্রতি বছর বন্যার পর যমুনার বুকে জেগে ওঠা উর্বর বালুচরে বাদামের চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ বছরও অর্জুনা, গাবসারা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাদামের আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা ইতোমধ্যে বাদাম সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।

ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছিল। সেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭ টন। এ বছর যমুনার চরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। যেখানে ৩ হাজার ১৩১ টন বাদাম উৎপাদিত হয়েছে।
গাবসারা ইউনিয়নের চাষি ফরিদুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী ও তুলা মিয়া জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় বাজারেও ভালো দাম মিলছে। তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে বাদাম চাষের পরিকল্পনা করছেন।
চাষিরা আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তারা বিনামূল্যে উন্নতমানের বাদাম বীজ ও সার পেয়েছেন। পাশাপাশি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে চাষাবাদ সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়েছেন, যা উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।
গোবিন্দাসী হাটের মহাজন ইব্রাহিম ও আলামিন জানান, এ বছর বাদামের চাহিদা বেশি থাকায় তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে তারা প্রতি মণ বাদাম আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকায় ক্রয় করছেন।
ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘যমুনার চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এবারও এখানে বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা ইতোমধ্যে বাদাম সংগ্রহ শুরু করেছেন এবং বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছেন। এই সফলতা আগামীতে বাদাম চাষ আরও বাড়াতে উৎসাহিত করবে।