লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:১৩ পিএম
ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রঙিন কপি চাষি মো. জামাল। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে কৃষক মো. জামাল স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার আবাদকৃত ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় দেড় লাখ টাকার কপি উৎপাদন হয়েছে।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের কৃষক মো. জামাল তার সফলতার কথা জানিয়েছেন। তার দেখাদেখি উচ্চমান পুষ্টি সমৃদ্ধ রঙিন কপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা।
কৃষক জামালের ভাষ্যমতে, তিনি বাড়ির পাশেই ২০ শতাংশ জমিতে সাদা, গোলাপি, হলুদ ফুলকপি ও লাল বাঁধাকপি (রেডকেবল) চাষ করেন। লাল বাঁধাকপি-রুবি কিং জাতের কপি উৎপাদনে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পোকা থেকে রক্ষায় হলুদ ফাঁদ ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। রঙিন কপির দাম বেশি পাওয়ায় তিনি শতভাগ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। জমিতে চাষসহ ফসল উৎপাদনে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। আর উৎপাদিত কপি প্রায় দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জামাল আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলে আমি একাই রঙিন কপি চাষ করেছি। এখন অনেকেই এসে আমার কাছে রঙিন কপি চাষের বিষয়ে জানতে চাচ্ছে। বাজারে কপির ভালো চাহিদা রয়েছে। খেতেও সুস্বাদু। বাজারে এ কপি সবার নজর কাড়ে। এছাড়া আমার ক্ষেতটি একটি এনজিও সংস্থা প্রদর্শনী হিসেবে ব্যবহার করছে।’
আক্তার উজ জামান নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘চরমনসা এলাকায় একজন কৃষক রঙিন কপি চাষ করছেন। এ কপিগুলো সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এজন্য ক্ষেত থেকেই কপি কিনতে এসেছি। দাম বেশি হলেও বাজারে এ কপির চাহিদা রয়েছে।’
চরমনসা গ্রামের কৃষক মো.ইব্রাহিম বলেন, ‘জামাল নতুন করে হলুদ, গোলাপি রঙের ফুলকপি ও লাল রঙের বাঁধাকপি চাষ করেছেন। ভালোই উৎপাদন হয়েছে। সাদা কপির দাম বাজারে এখন খুবই কম। কিন্তু রঙিন কপির দাম অনেক বেশি। প্রতিকেজি রঙিন ফুলকপি এখন ১৫০ টাকা ও রঙিন বাঁধাকপি ৮০-১০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আমিও চাষ করব।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম বলেন, ‘পরীক্ষামূলক অবস্থায় একজন কৃষক রঙিন কপি আবাদ করেছেন। তিনি বাজারমূল্য ভালো পাচ্ছেন। রঙিন কপিগুলো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। আমরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি এবং কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যেন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রঙিন কপি উৎপাদনে তারা আগ্রহী হয়। তাদেরকে অনুপ্রাণিত করছি যেন রঙিন কপিগুলো চাষ করে। এতে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।’