হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৩৩ পিএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের বহরামপুর গ্রামের মাঠে দাঁড়িয়ে ২২ মাথার অদ্ভুত দর্শন খেজুরগাছ। প্রবা ফটো
একটি খেজুরগাছে সাধারণত একটি মাথা থাকেÑ এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু এই গাছে রয়েছে ২২টি মাথা। একই কাণ্ডে ২২ মাথাওয়ালা এই গাছের সন্ধান মিলেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের বহরামপুর গ্রামের মাঠে। এই জমির মালিক ওই গ্রামের কাজী সোলায়মান হোসেনের জমিতে। অদ্ভুত দর্শন খেজুরগাছকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধারণা। গাছটি দেখতে বহরামপুরে ছুটে আসছে উৎসুক জনতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আনুমানিক ৩০ বছর আগে বহরামপুরের কৃষক কাজী সোলায়মানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় এই খেজুরগাছ। একটু বড় হলে রস আহরণের জন্য গাছটি কাটেন সোলায়মান। শুরুর দিকে এ গাছ থেকে রস আহরণ করলেও একাধিক মাথা গজানোয় পরে ওই গাছ থেকে রস সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়ে। আগে ২৮ মাথা থাকলেও এখন দৃশ্যমান রয়েছে ২২টি। আর সতেজ রয়েছে ১২টি মাথা। অবাক বিষয় হলো, মূল কাণ্ড থেকে ২২ মাথা নিয়ে আশপাশের অন্যান্য গাছের মতোই মাথা উঁচু করে সোজা দাঁড়িয়ে আছে খেজুরগাছটি। বিষয়টি অদ্ভুত ও অলৌকিক মনে করছে অনেকেই।
কথা হয় বহরামপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর আগে কাজী সোলায়মান হোসেনের এই জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় একটি খেজুরগাছ। গাছটি রস দেওয়ার মতো উপযুক্ত হলে কোনো এক শীত মৌসুম সামনে করে রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটেন ওই কৃষক। এভাবে প্রায় দশ বছর রস সংগ্রহ করেন ওই কৃষক। এর পরের বছর ওই খেজুরগাছে শুরু হয় মাথা গজানো। তারপর আর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এভাবে মাথা গজাতে গজাতে একে একে ৩০টার অধিক মাথা গজায়। ৪-৫ বছর আগে ৮টা মাথা শুকিয়ে মারা যায়। এখন ২২টা মাথা থাকলেও সতেজ আছে ১২টা।
স্থানীয় আরেক কৃষক মুনছুর আলী বিশ্বাস বলেন, সোলায়মান হোসেনের বহু মাথার খেজুরগাছ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থী, মিডিয়াকর্মীসহ সব বয়সের মানুষ এখানে আসে। বিকালবেলায় লোক সমাগম একটু বেশি হয়। এ ধরনের খেজুরগাছ সচরাচর দেখা যায় নাÑ এজন্য মানুষ এখানে আসে। আবার কিছু মানুষ আছে তারা এখানে এসে বিভিন্ন রোগমুক্তি কামনা করে মানত করে যায়। তারা বিশ্বাস করে, এখানে মানত করলে হয়তো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা এখানে আসে এবং গাছের সঙ্গে ছবি তোলে।
উপজেলার কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজ বলেন, এ ধরনের খেজুরগাছ সচরাচর দেখা যায় নাÑ এজন্য এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। যদি কখনও সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা আসে, তাহলে আমরা জায়গাটি পরিচর্যা ও পরিপাটি করার ব্যবস্থা করব বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী বলেন, এটা আসলে অলৌকিক কিছু নয়। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় খেজুরগাছ, তালগাছ ও সুপারিগাছÑ এই সমস্ত গাছের কোনো শাখা-প্রশাখা থাকে না। এ ধরনের গাছকে এক বীজপত্রী গাছ বলে থাকি। এ ধরনের গাছে একধরনের ফাইটো হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসরণের কারণে অনেক সময় এমনটি হয়। তবে সচরাচর এমনটি দেখা যায় না। অনেকেই গাছটি অলৌকিক মনে করে রোগমুক্তি কামনা ও শুভ কিছুর আশায় মানতও করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ ভুল।