সেমিনারে বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
মাশরুম শুধু খাবার হিসেবে নয় বরং এটি পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, মাশরুম খাবার হিসেবে যেমন ভালো, তেমনি রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতেও অবদান রাখে। বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন ও মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাহিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ, প্রকল্পটির পরিচালক কৃষিবিদ ড. আখতার জাহান কাঁকন প্রমুখ বক্তারা।
সরকার পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করায় মাশরুম চাষিরা বিপাকে পড়বেন এমন আশঙ্কার জবাবে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, আমাদের পলিথিনের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। কেননা যথেচ্ছ পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আগে যেমন কলার খোল, মাটির বস্তাসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতাম। তেমনি মাশরুম চাষে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে এসব ব্যবহার করতে হবে।
কৃষি সচিব বলেন, মাশরুম উপকারী জিনিস। এটির নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রচার করতে পারলে বড় একটি সম্পদে পরিণত হতে পারে। কৃষিকে কর্মসংস্থানের হাব হিসেবে তৈরি করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান হাব তৈরি করতে পারলে বেকারত্ব থাকবে না। আমরা সত্যিকারের গবেষণা চাই শুধু শুধু ৭৭ প্রকারের গবেষণা করলে হবে না, যা দিয়ে কাজ হয় না। রোগীদেরকে ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে মাশরুম রাখার নির্দেশনা দিতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেও যোগ করেন তিনি।
ওয়েস্টার্ন মাশরুম পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে বলে জানান ডা. বজলুল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম মাশরুম উৎপাদনকারী দেশ চীন। তারা বিশ্বের ৩২ ভাগ মাশরুম উৎপাদন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে থেকে উৎপাদন করে ১৬ ভাগ। এই মাশরুম শুধু সবজি বা খাবার নয় বরং পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মাসুদ হোসেন বলেন, মাশরুম ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আমরা একটি গবেষণায় বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছি।
মাশরুমের উচ্ছিষ্ট দিয়ে জৈব সার তৈরি করছেন ঝিনাইদহের উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিত কুমার। তিনি ২০২১ সাল থেকে মাশরুম চাষ শুরু করে ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে শুরু উৎপাদন করে চলছেন।
ইন্দ্রজিত কুমার বলেন, আমি মাশরুম থেকে জৈব সার তৈরি করে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, অন্যান্য ক্ষেতের চেয়ে এই ক্ষেতে বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছে। তিনি জানান, ৮-৯ লাখ টাকার পুঁজিতে বছরে ১০ টন মাশরুম উৎপাদন করে ১৮-২২ লাখ টাকা বিক্রি করছেন তিনি। সেখানে ১২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।
রাঙামাটির সুমেধ চাকমা ২০২১ সাল থেকে মাশরুম চাষ করছেন। তিনি জানান, তাদের অঞ্চলে প্রায় একশ জন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ করছেন। সুমেধ নিজে প্রতি মাসে ৫-১০ কেজি করে মাশরুম উৎপাদন করেন। এসব প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন।