× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গোমতীর চরে আগাম কপি চাষে কৃষকদের দৃষ্টি

জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫০ এএম

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৫১ পিএম

বুড়িচংয়ের হাসনাবাদের গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন কপি চাষে ব্যস্ত কৃষক। প্রবা ফটো

বুড়িচংয়ের হাসনাবাদের গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন কপি চাষে ব্যস্ত কৃষক। প্রবা ফটো

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা উজানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া কুমিল্লার বুড়িচংয়ের গোমতীর চরে বন্যার পরে রাঙ্গা (লালশাক) আর মুলা চাষে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে কৃষক। বর্তমানে চরের বিস্তীর্ণ জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি ফুল ও বাঁধাকপি চাষে মনোযোগ নদী-তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার কৃষকের।

সরেজমিন উপজেলার ভারেল্লা উত্তর, ভারেল্লা দক্ষিণ, ষোলনল, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের নদী-তীরবর্তী চরে পাওয়া চিত্রে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার অন্যতম সবজিভাণ্ডার খ্যাত গোমতীর চরে বছরের বারো মাসই কৃষকরা কোনো-না-কোনো ফসল উৎপাদনে ব্যস্ত থাকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম ছিল না। গত আগস্ট মাসে অতি বৃষ্টি, বন্যাসহ ভারত থেকে আসা উজানের পানিতে গোমতীর পুরো চরাঞ্চলের ফসল পানিতে তলিয়ে গেলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক। এ অবস্থায় বন্যা-পরবর্তী দ্রুত চাষাবাদের উপযুক্ত করে প্রথম অবস্থায় আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লালশাক ও মুলা চাষে ঝুঁকে পড়ে। 

রামচন্দ্রপুর, শাহী রামচন্দ্রপুর, এতবারপুর, কুসুমপুর, হাসনাবাদ, কোমাল্লা, গোবিন্দপুর, বাগিলারা, বাজেবাহেরচর, বাজেহুরা, কাঠালিয়া, রামপাল, ফরিজপুরসহ বেশকিছু নদী-তীরবর্তী চরাঞ্চলের একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে দ্রুত ফলনশীল রাঙ্গা ও মুলা চাষে ঝুঁকে পড়েন। বর্তমানে চরাঞ্চলে প্রায় শেষ পর্যায়ে রাঙ্গা বাজারজাতকরণে ব্যস্ত চাষি। পাশাপাশি চরের জমিতে ফুলকপি, পাতাকপি রোপণ শুরু করেছে। 

হাসনাবাদ চরে কথা হয় মোসলেম, আবুল কাসেমসহ একাধিক কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, রাঙ্গা বিক্রয় শেষে ফুল ও পাতাকপি লাগিয়েছি প্রায় এক মাস হলো। এগুলো ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাজারজাত করতে পারব। এখানকার জমি অল্প কিছুদিনের মধ্যে কপি চারায় ঢেকে যাবে। আগস্ট মাসের শুরুতেই কপি চারা লাগানো শুরু হলেও এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি, বন্যায় সেটা সম্ভব হয়নি। 

চরের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত শ্রমিক কামাল, সামসু, জহির, মোতালেব জানান, এখানে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে যেতে হয় না। বিভিন্ন পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। গোমতীর চরাঞ্চলের আশপাশজুড়ে প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে কাঁচাবাজার, পাশাপাশি এই উপজেলার নিমসার এলাকায় আছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার। এর বাইরেও চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম থেকেও পাইকাররা এসে চর থেকে কিনে নেয়। 

তবে এখানকার কৃষকদের আক্ষেপ, সারা দেশে সরকার কৃষকদের নানাভাবে প্রণোদনা দিলেও গোমতী চরের কৃষকদের ভাগ্যে সেটা  জোটে না। এমনকি কোনো পরামর্শও না। সম্পূর্ণ নিজস্ব অভিজ্ঞতায় বেসরকারি বীজ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরাই তাদের সুখদুঃখের সঙ্গী। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিনা আক্তার জানান, বন্যায় কমপক্ষে ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে দুদফায় সর্বমোট তিন হাজার ২০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়। যা অপ্রতুল। তবে আমরা সব সময় কৃষকদের খোঁজ রাখি। মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয়।

ক্যাপশন : গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন কপি চাষে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। সম্প্রতি বুড়িচংয়ের হাসনাবাদ এলাকা থেকে তোলা



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা