× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বগুড়ায় ব্ল্যাক রাইস ধান চাষে সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষক সোহেল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৭:০৭ পিএম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১২ পিএম

বগুড়ায় ব্ল্যাক রাইস ধান চাষে সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষক সোহেল

ঔষধি ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধান চাষ করে সাড়া ফেলেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ফকির সোহেল।  তিন একর জমিতে তিনি এ ধান চাষ করেছেন। হয়েছে বাম্পার ফলন।

কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল শিবগঞ্জের পিরব এলাকার বাসিন্দা। হিসাববিজ্ঞানে অনার্স শেষ করতে না পারলেও ব্ল্যাক রাইস ধান চাষে জীবনের হিসাব ঠিকই মিলিয়েছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তার এমন সাফল্য দেখে এ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা ।

জানা গেছে, ব্ল্যাক রাইস ধানের উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ায়। অধিক ঔষধি গুণ থাকায় এক সময় চীনের রাজা-বাদশাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য গোপনে এই ধান চাষ করা হতো। যা প্রজাদের জন্য চাষ করা বা খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে এই ধানকে নিষিদ্ধ ধানও বলা হতো। 

পরবর্তীতে জাপান ও মিয়ানমারে এই ধান চাষ শুরু হয়। সেখান থেকে আসে বাংলাদেশে। পার্বত্য এলাকায় এ চালকে বলা হয় পোড়া বিন্নি চাল। থাইল্যান্ডে একে বলে কাও নাইও ডাহম। চীনের সপ্তদশ শতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মূল্যবান ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান শিবগঞ্জের পিরব এলাকায় একাই চাষ করছেন ফকির সোহেল। 

২০১৯ সালে অনলাইনে ব্ল্যাক রাইচ বা কালো ধান নিয়ে কম খরচে অধিক লাভের একটি প্রতিবেদন দেখে এই ধান চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নেন সোহেল। প্রথমে ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক কালো ধান রোপণ করেন। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় পরে তিন একর জমিতে এ ধান লাগিয়ে এলাকায় সবার মাঝে সাড়া ফেলে দেন তিনি।

এই ধানের বীজ নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন তিনি।

বগুড়া শহর থেকে বীজ কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, ফেসবুকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে সোহেলের কালো ধানের ব্যাপারে জানতে পারি। কম খরচে অধিক উৎপাদন হওয়ায় এই জাতের ধানবীজ নিতে এসেছি। আগামী বছর থেকে আমিও এই ধান চাষ করব।

স্থানীয় কৃষক ইউনূস আলী বলেন, বিদেশি জাতের ধান আমাদের এই এলাকায় চাষ হচ্ছে। অল্প টাকা ও পরিশ্রমে ধান ভালই হয়েছে। সোহেলের থেকে বীজ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আমিও এই ধান লাগাব।

কৃষক হামিদুল বলেন, ব্ল্যাক রাইস ধান এখানে আবাদ করার পর দেখি ফলন খুব ভালো। আমার দেখা মতে এ ধানে সার ও কীটনাশক কম লাগে। তাই পরবর্তীতে এ ধান আমি আবাদ করব। আশা করছি সোহেলের মত বেশ ভাল লাভ হবে।

ব্ল্যাক রাইস ধান চাষী ফকির সোহেল বলেন, ২০১৯ সালে ২০ শতাংশ জমিতে কালো ধান চাষাবাদ শুরু করি। সেই থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তিন একর জমিতে ধান লাগিয়ে সাবলম্বী হয়েছি। এই ধান চাষে কম খরচে কয়েক গুণ লাভ হয়। সাধারণ জাতের ধান প্রতি বিঘাতে যেখানে ১৮ থেকে ২০ মণ উৎপাদন হয় সেখানে কালোধান প্রতি বিঘাতে ২৮ থেকে ৩০ মণ পাওয়া যায়। বাজারে এই ধানের চালের বেশ চাহিদা থাকায় দামও অনেক। প্রতি কেজি চালের দাম ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। 

তিনি আরও বলেন, আমি কালো ধানের পাশাপাশি পারপল রাইস, হাইব্রিড, চিনিগুড়া ও বাসমতী জাতের ধানও চাষ করছি। স্থানীয়সহ সারাদেশের কৃষকরা যেন সহজেই আমার থেকে বীজ সংগ্রহ করে অধিক লাভবান হতে পারে আমি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এনামুল হক জানান, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই ধান চাষে আমাদের অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছেন। আমরাও উদ্বুদ্ধ করছি। উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা