প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪ ২১:৩৮ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ শীর্ষক বাজেটে এবারের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। বাজেটটিতে কৃষি খাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মন্ত্রণালয়ে বাজেট বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে। কৃষকদের বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা না হলে বাংলাকে বাঁচাতে পারবেন না।’
জাতির পিতার এ দর্শনকে ধারণ করে তার সুযোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ফসলের উন্নত এবং জলবায়ুসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ, সুলভ মূল্যে সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে এবং তা অদূর ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। সারে ভর্তুকি প্রদানের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি ও ফলসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ
দেশে কাজুবাদাম চাষকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে খোসা ছাড়ানো কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার খাত বিবেচনা করে কাজু বাদাম আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ ও এসেপটিক প্যাক আমদানিতে আমদানি শুল্ক (সিডি) ২৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত কাজু বাদামের বাজার বিকাশের উদ্দেশ্যে কাজু বাদাম আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) আরোপ করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের ৫০ লাখ পরিবারকে বছরে কর্মাভাবকালীন ৫ মাস প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সমগ্র বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের প্রায় ১ কোটি পরিবারের কাছে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্যের অপচয় রোধে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ২১ দশমিক ৮৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে তা ২৯ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সম্পর্কে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধজলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। জেলেদের সুরক্ষায় তাদের কর্মহীন সময়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগির টেকসই জাত উন্নয়ন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণ করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার উপহার, প্রাণীর পাশেই ডাক্তার’-এ নীতি সামনে রেখে প্রাণী চিকিৎসাসেবা খামারির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩৬০টি উপজেলায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
বিদেশি মাছ আমদানিতে করারোপ
বিদেশ থেকে ম্যাকারেল নামের একটি সামুদ্রিক মাছ আমদানি হয়। এই মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। ফলে মাছটির দাম বাড়তে পারে। এ করহার সার্ডিন মাছের সমান করা হয়েছে।