প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ১২:৫৩ পিএম
আশনা হাবিব ভাবনা।
কান চলচ্চিত্র
উৎসবে রীতিমতো তারার মেলা বসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনপ্রিয় তারকা ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিরা এসেছেন এ উৎসবে অংশগ্রহণ করতে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মতো ফ্যাশনপ্রেমীদেরও
আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু কান চলচ্চিত্র উৎসব। কারণ এখানে প্রিয় তারকাদের নানা
ফ্যাশনেবল লুকে দেখা যায়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা বিশ্বচলচ্চিত্রের
সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্ট উপলক্ষে বর্তমানে অবস্থান করছেন ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায়। আমন্ত্রিত
অতিথি হয়ে আগেই পৌঁছে গেছেন ভাবনা। কোনো চলচ্চিত্রের ব্যানারে নয়, বরং নিজ উদ্যোগেই
কান উৎসবে গেছেন তিনি। আর সেখানে বিশ্বখ্যাত তারকাদের মাঝে নজরও কেড়েছেন অভিনেত্রী।
কান উৎসব শুরুর প্রথম দিন থেকেই প্রতিদিন আলাদা সাজে নিজেকে হাজির করছেন ক্যামেরায়।
সাজ-পোশাকে একেক দিন তুলে ধরেছেন একেকটি বিষয়। কাকের সঙ্গে অভিনেত্রী ভাবনার সখ্যের খবর কমবেশি সবাই জানেন। ঢাকায় নিজের বাসার বারান্দায় বা ঘরের সামনের ফাঁকা জায়গায় অবাধ বিচরণ কাকদের। ভাবনার ফেসবুকের ভিডিও কিংবা তার আঁকার ক্যানভাসেও উঠে এসেছে শহরের কাকেরা। এ কাক নিয়েই ভাবনা হাজির হয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৭তম আসরে। কাকের আদলে পোশাক পরে কান উৎসবের রেড কার্পেটে হাজির হয়েছেন এ অভিনেত্রী। নিজের সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন তিনটি ছবি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কাকদের সঙ্গে করে আমি কান উৎসবে নিয়ে এসেছি।’
-664d9605d0d3c.jpg)
উৎসবের চতুর্থ
দিনের লাল গালিচায় ভাবনাকে দেখা গেছে কালো ফ্লোরাল বডিস্যুট ও র্যাপ স্কার্টে। ছোটবোন
অদিতির ডিজাইন করা ভেলভেটের এ র্যাপ স্কার্টের একদম নিচের দিকে ফ্লোরাল প্রিন্টের
মাঝে জ্বলজ্বল করছে তার অত্যন্ত প্রিয় চার অভিনেত্রী ববিতা, সুবর্ণা মুস্তাফা, মেরিল
স্ট্রিপ ও অড্রে হেপবার্নের নাম। নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী অগ্রজদের প্রতি এমন অনন্য
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রমাণ করলেন তিনি নিজেই শুধু সুন্দর নন, তার ভাবনাগুলোও সমান সৌন্দর্যের
অধিকারী।
পঞ্চম দিনে ভাবনা
কানের সৈকতপারে চিরায়ত বাঙালি নারীর সাজে হাজির হয়েছেন। সে দিনটা ভাবনার জন্য বিশেষ
আবেগমাখা। কারণ ভাবনা সেদিন গায়ে চাপিয়েছিলেন তার মায়ের বিয়ের লাল টুকটুকে শাড়িটা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম
প্রোফাইলে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে সেই শাড়ি পরা ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। ছবিতে
তাকে দেখা যাচ্ছে জমকালো লাল কাতান শাড়ি ও রুপালি সুতার কাজ করা লাল স্লিভলেস ব্লাউজে।
শাড়ির জমিনজুড়ে রুপালি জরির পেটানো কাজ। এ নিয়ে ভাবনা বলেন, ‘যে মুহূর্তে আমি কানের
রেড কার্পেটে হাঁটার আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, আমি জানতাম যে আমার পোশাকের মাধ্যমে একটি
বিশেষ বার্তা দিতে চাই। এরপর আমি যখন নিখুঁত পোশাক খোঁজার জন্য আলমারি ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম,
তখন আমার চোখ মায়ের বিয়ের শাড়িতে আঁটকে যায়। মুহূর্তেই আমি মনের মধ্যে আবেগের তুমুল
ঢেউ অনুভব করলাম। এ শাড়ি কেবল একটি কাপড়ের টুকরা নয়, এটি ভালোবাসা, ঐতিহ্য এবং আমার
পিতা-মাতার আশীর্বাদের প্রতীক।’
নিজ উদ্যোগেই
আমন্ত্রণ নিয়ে কানে পা রেখেছেন ভাবনা। অনেক কারণেই এ কানযাত্রা অভিনেত্রীর কাছে আজীবন
স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে এটি আরও বিশেষ করে দিলেন মালয়েশীয় বংশোদ্ভূত
বাংলাদেশি নির্মাতা জাফর ফিরোজ। তিনি একটি ছবি বানাতে যাচ্ছেন। এ ছবির নাম ‘জেনুবিয়া’।
এতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করবেন ভাবনা। সেই চুক্তি হয়েছে কানে বসেই। প্রথমবার
কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় বেশ আনন্দিত ভাবনা। কান থেকে তিনি
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটা আমার কাছে চমক জাগানিয়া একটি খবর। এবারের কানযাত্রাটা
বিশেষ হয়ে এলো এ ছবির হাত ধরে। আমি এর শুটিং শুরু করতে অপেক্ষায় আছি।’
সিনেমাটি নিয়ে
তিনি আরও বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পীর চাওয়া প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন চরিত্রে দেখার। আমি
এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম, যা সত্যিই গর্ব করার মতো। শর্তের কারণে অনেক
কিছু বিস্তারিত বলতে পারছি না। কিন্তু আমাকে যে গল্পটা শোনানো হয়েছে, খুবই চমৎকার।
কান উৎসবে থেকে সিনেমায় যুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি আমার কাছে দারুণ লাগছে।’
এদিকে জেনুবিয়া ছবির পরিচালক জাফর ফিরোজ জানান, ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করে ১২ বছর আগে মালয়েশিয়া যান তিনি। সেখানকার লিমকক উইং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। এর আগে চায়নিজ ‘রিবর্ন’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে থাকলেও এটি হতে যাচ্ছে জাফরের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
-664d9620dcae4.jpg)
এ ছবির নির্বাহী
প্রযোজক হিসেবে আছেন কিয়াও লি, যিনি একজন ব্রিটিশ চায়নিজ প্রযোজক। একই সঙ্গে তিনি ইউনেসকো
ফিল্ম সিটির সঙ্গেও যুক্ত আছেন বলে কান উৎসব থেকে জানালেন পরিচালক। বাংলা, ইংরেজি ও
চায়নিজ ভাষায় ছবিটি তৈরি হবে। এটি তিন দেশে মুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে তার। সবকিছু ঠিক
থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ছবির কাজ শুরু হবে। পুরো ছবির শুটিং হবে মালয়েশিয়ায়। অন্যান্য
অভিনয়শিল্পীও এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান পরিচালক।
প্রসঙ্গত, ভাবনা
তার অভিনয় জীবন শুরু করেন ‘নট আউট’ নাটক দিয়ে। ২০১৭ সালে অনিমেষ আইচের ‘ভয়ংকর সুন্দর’
দিয়ে তিনি চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন। সম্প্রতি কাজ শেষ করেছেন ‘দামপাড়া’, ‘যাপিত
জীবন’ ও ‘পায়েল’ ছবির কাজ। দামপাড়া পরিচালনা করেছেন শুদ্ধমান চৈতন। অন্যদিকে নারীকেন্দ্রিক
গল্পের সিনেমা পায়েল পরিচালনা করছেন রায়হান খান। আর যাপিত জীবন নির্মাণ করছেন ভাবনার
বাবা হাবিবুর রহমান হাবিব।
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক
সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস ‘যাপিত জীবন’ অবলম্বনে এটি নির্মিত হচ্ছে। দেশভাগ, ভাষা
আন্দোলনসহ নানা বিষয় উঠে আসবে সরকারি অনুদানের এ ছবিতে। তিনটি ছবিতেই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে
দেখা মিলবে ভাবনার। তিনিও বুক বেঁধে আছেন, ছবিগুলো তার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে বসন্তের
হাওয়া হয়ে বইবে।