প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ১১:৫৭ এএম
আগামী ৩০ মে ৯৯ বারের মতো মঞ্চে আসবে ‘কহে বীরাঙ্গনা’।
প্রায় ১৪ বছর আগে সেই ২০১০ সালের শেষের দিকে মঞ্চে এসেছিল ‘কহে বীরাঙ্গনা’
নাটকটি। দিনে দিনে এটির ৯৮টি প্রদর্শনী হয়েছে। ১০০তম রজনীতে নাটকটি মঞ্চায়নের দ্বারপ্রান্তে।
আগামী ৩০ মে এটি মঞ্চে আসবে ৯৯ বারের মতো। আর তার পরদিনই শততম প্রদর্শনীর মাইলফলক স্পর্শ
করবে ‘কহে বীরাঙ্গনা’। এর মধ্য দিয়ে মণিপুরি থিয়েটারও হাঁটবে ঐতিহাসিক এক সাফল্যের
পথে।
শততম প্রদর্শনী উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে একটি মুক্ত আলোচনা পর্বেরও
আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বক্তব্য দেবেন দেশের গুণি নাট্যজনরা। রাজধানীর সেগুনবাগিচার
শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এটি অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মে বেলা ৩টায়।
নাটকের প্রদর্শনীও হবে সেখানেই, ৩০ মে ও ৩১ মে সন্ধ্যা ৭টায়।
‘কহে বীরাঙ্গনা’র সেঞ্চুরিকে কেন্দ্র করে মণিপুরি থিয়েটারে উৎসবের
আমেজ লেগেছে। সবাই প্রস্তুত হচ্ছেন রঙিন আয়োজনে সেদিন হাজির হবেন বলে। দলটির অধিকর্তা
শুভাশিস সিনহা বলেন, ‘যেকোনো থিয়েটার দলের জন্য কোনো প্রযোজনার শততম প্রদর্শনী করতে
পারা দারুণ আনন্দের। আর সেই প্রদর্শনীগুলো যদি গ্রাম থেকে শুরু করে শহরে, জাতীয়-আন্তর্জাতিক
পর্যায়ে এবং দেশের বাইরে প্রায়শই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সব পরিসরেই প্রশংসা পায়, তা অন্যরকম
ভালো লাগা তৈরি করে। ‘কহে বীরাঙ্গনা’র ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। আমি মনে করি, অভিনয়ের ক্ষেত্রে
শরীর-বচন-মুদ্রা-সংগীত-অভিব্যক্তি সবকিছুকে একাত্ম করে এক ধরনের এনার্জেটিক ও অর্গানিক
ইউনিটির অভিনয়রীতি এ নাটকে ধারণ করা গেছে, দেশজ হয়েও যা বৈশ্বিক, জ্যোতি সিনহা যার
অনুপুঙ্খ রূপায়ণকারী। পরবর্তীকালের অনেক নাটকের অভিনয়শৈলীতে এর প্রভাব লক্ষ করা গেছে।
এটা অবশ্যই আনন্দের।’
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্য থেকে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন
শুভাশিস সিনহা। এক ঘণ্টার নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন জ্যোতি সিনহা। তাকে সঙ্গ দেবেন
দলটির আরও কয়েকজন শিল্পী।
শকুন্তলা, দ্রৌপদী, দুঃশলা ও জনাÑ এই চার পৌরাণিক নারীর বিরহ, ঈর্ষা,
শান্তি ও বিদ্রোহ তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে। যার মূল কথা উঠে আসে হিংসা নয়, প্রেমেই
মানুষের মুক্তি। মহাভারতের এই চার নারীর স্বামীকে লেখা চিঠিই নাটকের মূল উপজীব্য। নির্দেশক
জানান, কাব্যকে অক্ষুণ্ন রেখে শারীরিক ও বাচিক অভিনয়ের মিশেলে নাটকটি তৈরি করা হয়েছে।
নাটকটির ভাষা বাংলা। তবে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মণিপুরি বাদ্য, তাল ও নৃত্যভঙ্গি।
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হয়েছে নাটকটি। দেশের বাইরেও
বেশ কয়েকটি উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছে। অর্জন করেছে চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খান স্মৃতিপদক।