আলাপন
লিমন আহমেদ
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৩:১৪ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ১৩:১৫ পিএম
ইভান সাইর।
চোখ ভরা স্বপ্ন
নিয়ে শোবিজে পা রেখেছিলেন। সে স্বপ্ন ক্রমেই ডানা মেলেছে আসমানে। গতকাল মুক্তি পাওয়া
‘পটু’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হলেন তরুণ অভিনেতা ইভান সাইর। এ ছবি দিয়ে সংগীত
পরিচালক থেকে সিনেমার পরিচালক হিসেবে নাম লেখালেন আহমেদ হুমায়ুন। ক্যারিয়ারের প্রথম
সিনেমার মুক্তি, দর্শক প্রতিক্রিয়া ও নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ইভান। লিখেছেন
লিমন আহমেদ-
অবশেষে কাটল প্রতীক্ষার প্রহর। মুক্তি পেয়েছে পটু। চিত্রনায়ক হিসেবে অভিষেকটা হয়েই গেল। কেমন লাগছে?
এ আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। আমি খুবই সৌভাগ্যবান জাজ মাল্টিমিডিয়ার মতো একটি বড় ব্যানারের সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় নাম লেখাতে পারলাম। জাজের আবদুল আজিজ ভাইয়ের প্রতি আমার আজন্মের কৃতজ্ঞতা। সেই সঙ্গে আমার সিনেমার ক্যাপ্টেন আহমেদ হুমায়ুন ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ। তারও এটা প্রথম সিনেমা। তিনি তার প্রথম সিনেমাতেই আমার মতো নবাগত অভিনেতার ওপর আস্থা রেখেছেন, এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।

কোনো চাপ অনুভব করছেন?
অনেক। এত দিন
একটা চাপা উত্তেজনা ছিল যে ছবিটি কবে মুক্তি পাবে। মুক্তির পর ভাবনা কাজ করছে ছবিটি
কেমন চলবে। দর্শক দেখবে কি? তাদের ভালো লাগবে কি? তবে প্রথম দিনের রেসপন্স আমাকে সাহস
দিচ্ছে। কাল বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বেশ কিছু হলে গিয়েছি। দর্শকের আগ্রহ
ও উচ্ছ্বাস দেখে আশা জাগছে, ভালো কিছুই করবে পটু।
সবাইকে আমন্ত্রণ
জানাই- হলে গিয়ে পটু দেখুন।
দর্শক কেন পটু দেখবে? আপনার দৃষ্টিতে এ সিনেমার বিশেষত্বটা কোথায়?
দর্শক নতুনত্ব
পছন্দ করেন। আর পটুর মধ্যে তারা গল্প, অভিনয়শিল্পী, লোকেশনÑসবই নতুন দেখতে পাবেন। নির্মাণের
মধ্যেও একটা নতুন আমেজ পাওয়া যাবে। আহমেদ হুমায়ুন ভাই ফ্রেম টু ফ্রেম গবেষণা করে কাজটা
করেছেন। তার পরিশ্রমের কথা আসলে বলে শেষ করা যাবে না। যারা গল্পপ্রধান সিনেমা ভালোবাসেন
তাদের জন্য পটু স্পেশাল মুভি।
এ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার গল্পটা জানতে চাই…
২০২২ সালের নভেম্বরে
আহমেদ হুমায়ুন ভাইয়ের একটি ফোনকল পাই। জানতে পারি, তিনি একটি সিনেমা বানাবেন। আর সেই
সিনেমার পটু চরিত্রের জন্য আমাকে তার ভালো লেগেছে। মূলত ফেসবুকে আমার একটি ছবি দেখেই
তার এমনটা মনে হয়। এরপর দীর্ঘ অডিশন শেষে চরিত্র অনুযায়ী লুক সেট করে পটুর প্রধান চরিত্রের
জন্য নির্বাচিত হই।
সিনেমায় আপনার চরিত্রটা কেমন?
প্রথমেই বলে রাখি
সিনেমার গল্পটা রাজশাহীর ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা চরখানপুরের। চরিত্রে দেখা যাবে আমি
এবং নায়িকা শহর থেকে এ গ্রামে যাই। এরপর মুখোমুখি হতে থাকি একের পর এক সব রোমাঞ্চকর
ঘটনার। বাকিটা আর বলছি না। হলে এসে দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আপনি নতুন, পরিচালক ও নায়িকা নতুন। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা করতে গিয়ে একটু বেশিই কি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিলেন?
সত্যি কথা বলতে
প্রচুর চ্যালেঞ্জ ছিল কাজটি করতে গিয়ে। তবে এ চ্যালেঞ্জ জয় করাটাই বড় সাফল্য। আমি চ্যালেঞ্জ
নিতে পছন্দ করি। আর আমরা নতুন বলেই আমাদের বোঝাপড়া ভালো ছিল। ভালো কাজের তৃষ্ণা ছিল।
শুনেছি ছবির শুটিং হয়েছে দুর্গম এলাকায়। এতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
রাজশাহীর চরখানপুরের
মতো দুর্গম গ্রামে গিয়ে শুটিং করেছি আমরা। সেখানে রাতে থেকেছি তাঁবু টানিয়ে। এটা ছিল
অবিশ্বাস্য রকম প্রতিকূল পরিবেশের একটা লোকেশন। অনেক কিছু মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
কারণ সিনেমার জন্য আবার লোকেশনটা পারফেক্ট ছিল। আমাদের সবারই কষ্ট হয়েছে। সব কষ্ট সয়ে
গেছি একটা ভালো কাজ হচ্ছে সেই প্রত্যাশায়।
ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আপাতত পটু নিয়েই
সব চিন্তাভাবনা। সবে তো মুক্তি পেল। দর্শক প্রতিক্রিয়া ও গুণিজনের মতামতের অপেক্ষায়
আছি। দেখা যাক তারা কী বলেন। তবে এতটুকু বলে রাখি, অভিনয় আমি আগে থেকেই ভালোবাসি। আর
এখন সিনেমার প্রেমে পড়েছি। ইচ্ছা এবং সংকল্প আছে সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করার, ভালো
করার। এজন্য চাই সবার ভালোবাসা।