বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৩৪ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩৭ পিএম
মেহেদী হাসান টিংকুর পরিচালনায় অভিনয় করলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। নাটকের নাম ‘অপরাজিতা’। এটি রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন।
এ নাটকে মূল ভূমিকায় দেখা যাবে শবনম ফারিয়াকে, চরিত্রের নাম কণা। তিনি পেশায় ব্যাংকার। নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন মনোজ প্রামাণিক।
এ ছাড়াও নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে বাশার বাপ্পি, মম আলি, শাজাহান সৌরভসহ আরও অনেককে।
‘অপরাজিতা’ নাটকটি শিগগিরই দেখা যাবে কোনো একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে।
নাটকের গল্প সম্পর্কে নির্মাতা টিংকু বলেন, শুভ ব্যাংকে লােন সেকশনে কাজ করে। শুভ বেশ শান্ত টাইপ ছেলে, কোনো ভেজাল পছন্দ করে না। শুভর খুবই অদ্ভুত এক গার্লফ্রেন্ড আছে। তার নাম কণা। সবাই তাকে ‘কণা আপা’ বলেই ডাকে। শুভও মাঝে মাঝে ভুলে ‘কণা আপা’ বলে ডেকে ফেলে। কণাও একই ব্যাংকে শুভর সঙ্গে লােন সেকশনে কাজ করে। কণা যেন একটা ক্যালকুলেটর। মুহূর্তের মধ্যে সে হিসাব করে দিয়ে বলতে পারে লােন নিলে মাসিক কিস্তি কী পরিমাণ হবে।
তার ব্রেনটা একটা জীবন্ত ক্যালকুলেটর। এমনকি রাতের বেলা শুয়ে থাকলেও তার ব্রেন অটো চলতে থাকে। কাকে কী পরিমাণ লােন দিতে হবে, কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কার কী কী কাগজপত্র লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাকে নিয়ে শুভ সবসময় হাসাহাসি করে। তাকে ক্যালকুলেটর বলে। কিন্তু কণা মাইন্ড করে না। কারণ সে জানে, তার এই গুণটিই তাকে অন্য সবার থেকে এগিয়ে রেখেছে। কণা আর শুভ একসঙ্গেই কাজ করে। এই পর্যন্ত প্রায় একশর মতাে মানুষের লােন তারা করিয়ে দিয়েছে। বস তাদের ওপরে খুবই খুশি। কণা কয়দিন পরে পরেই নানা ধরনের বােনাস পায়। শুভও পায়, তবে কণার থেকে কম।
কণা তাকে বলে বেশি বেশি কাজ করতে। কিন্তু শুভর ভালাে লাগে না। শুভ বলে তার অত টাকার দরকার নেই। কণার বােনাস পাওয়াতে তার অন্য পুরুষ কলিগরা তাকে বেশ হিংসা করে। তাকে নানাভাবে বুলিংও করে। কণা এসবে পাত্তা দেয় না। সে নিজের মতাে করেই কাজ করে যায়। শুভ তাকে সবসময় হেল্প করে। কণার পাশে সে সবসময় ছায়ার মতাে আগলে রাখে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা খারাপ পুরুষদের দ্বারা নানাভাবে বুলিং হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়। কিন্তু তবুও তাদের এসব উপেক্ষা করে কাজ করে যেতে হয়। কণাও তাই করে। কত বিচিত্র ধরনের ক্লায়েন্টের সঙ্গে তার প্রতিদিন মিটিং করতে হয় লােন নিয়ে। কখনও তিক্ত অভিজ্ঞতা, কখনও কত মজার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তাকে হতে হয়। কণা এই সবকিছুকেই পায়ে দলে কাজ করে যায়।
এমনকি তার সঙ্গে কত ক্লায়েন্টের সুসম্পর্কও হয়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে যেমন খারাপ মানুষ থাকে, তেমনি শুভর মতাে অসাধারণ ভালাে মানুষও আছে, যারা নারীদেরকে দারুণ শ্রদ্ধা করে। শুভ আর কণার জীবনে দারুণ স্বপ্ন থাকে, তারা দুজনেই বিয়ে করবে। কিন্তু সংসারের টানাপােড়নে এটা আর হয়ে ওঠে না। শুভ অপেক্ষা করে। সুদিন আসবে। কণা নিজের ভাগ্যের চাকা ঘােরাতে প্রচুর পরিশ্রম করে যায়।
এদিকে বসের অনুরোধে একজন ক্লায়েন্টকে ভিজিট করার কথা কণার। কণা যেতে পারে না, শুভ যায়। শুভ ভিজিট করেই বুঝতে পারে এই লােকের ফিজিক্যাল অবস্থা সুইটেবল না। তাকে লােন দেওয়া যাবে না। কণা নেগেটিভ রিপাের্ট দেয়। বিষয়টা স্যারের মনঃপূত হয় না। তিনি শুভকে ফোর্স করে এখান থেকে পজিটিভ রিপাের্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শুভ রাজি হয় না। তখন কণা আর শুভ অফিস ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। এভাবেই চলতে থাকে কণা ও শুভর জীবনের গল্প।