বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৪ পিএম
আজ ৬ নভেম্বর। দর্শকপ্রিয় অভিনেতা আলী যাকের ও তার ছেলে ইরেশ যাকেরের জন্মদিন। এই একই দিনে বাবা-ছেলে তাদের নিজ নিজ মায়ের কোল আলো করে পৃথিবীতে এসেছিলেন। শোবিজ অঙ্গনের দুই প্রজন্মের দুই তারকার এই অদ্ভুত মিল যেন এক বিস্ময়।
আর তাই প্রতিবছর নাট্যাঙ্গন, ভক্ত ও স্বজনদের কাছে বাবা-ছেলের জন্মদিনটা একটু বেশিই স্পেশাল হয়ে থাকে। প্রতিবার বাবা-ছেলে একসঙ্গে কেক কাটতেন, জন্মদিনে সময় কাটাতেন। আজ বাবা নেই। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন আলী যাকের। বাবাকে ছাড়া এবার এক বিষাদমাখা জন্মদিন পালন করছেন ইরেশ। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আলী যাকের। তা ছাড়া তিনি ছিলেন ক্যানসারে আক্রান্ত।
নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করেন আলী যাকের। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সাল থেকে কাজ করছেন নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় নিয়ে। মঞ্চে নূরলদীনের সারাজীবন, দেওয়ান গাজীর কিসসা, কপোনিকের ক্যাপ্টেনসহ অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন ও দিয়েছেন নির্দেশনা। মঞ্চের পাশাপাশি টিভিনাটকেও সমাদৃত হন এই তারকা। আজ রবিবার, বহুব্রীহিসহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আলী যাকের। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন আলী যাকের। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের বৃহৎ বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের স্বত্বাধিকারী। নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের তার সহধর্মিণী। আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতির ছেলে ইরেশ যাকের ছাড়াও রয়েছেন এক মেয়ে। নাম শ্রিয়া সর্বজয়া। তিনিও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে ইরেশ যাকের জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ৬ নভেম্বর। টিভিনাটকে তার ভিন্নধারার অভিনয় আলাদা একটি দর্শক সৃষ্টি করেছে। শুধু টিভিপর্দাতেই নয়, তিনি অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও।
বাবাকে ঘিরে বিশেষ কোনো স্মৃতি মনে পড়ে কি না জনাতে চাইলে ইরেশ যাকের বলেন, ‘নিজ নিজ ব্যস্ততার কারণে আমাদের একসঙ্গে থাকার সুযোগ ছিল না। অথচ বাবা চলে যাওয়ার আগের শেষ আট মাস আমরা একই বাড়িতে একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়ি রতনপুরে গিয়েছি, যা আমরা আগে কল্পনাও করতে পারতাম না। আমরা টানা এক মাস প্রতিদিন একসঙ্গে টিভিতে খেলা দেখেছি। এটাও অবিশ্বাস্য। বাবার শেষ জন্মদিনেও আমরা গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে জন্মদিনের কোনো আয়োজন না থাকলেও দারুণ আনন্দ করেছিলাম আমরা। বাবা চলে যাওয়ার আগে অনেকটা সময় তার সান্নিধ্যে পেয়েছিÑএটাই আনন্দের। বাবা ও আমার একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় দিনের প্রথমভাগে আমার জন্মদিন উদযাপন হতো। রাতে থাকত বাবাকে ঘিরে আয়োজন। সেখানে বাবার বন্ধুরা থাকতেন। আজ বাবা নেই, সব শূন্য লাগে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবার স্মৃতি সংরক্ষণে বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। তার অভিনীত নূরলদীনের সারাজীবন, দেওয়ান গাজীর কিসসা, গ্যালিলিও, ম্যাকবেথ, কবরসহ আরও অনেক নাটকের চরিত্র দর্শকের মনে এখনও গেঁথে আছে। তাই বাবার স্মৃতি সংরক্ষণে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। তার শৈশব নিয়ে একটি প্রজেক্ট করার ইচ্ছা রয়েছে। এটি কত বছরে করতে পারব তা জানি না। তাকে নিয়ে একটা বই প্রকাশেরও পরিকল্পনা চলছে।’ পাশাপাশি ইরেশের জীবনের বড় পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার এই স্বল্প জীবনে আলী যাকের আর সারা যাকেরকে বাবা-মা হিসেবে পেয়েছি। নিজে বাবা হয়েছি। এর চেয়ে আর বড় পাওয়া কী হতে পারে!’