বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৪৪ পিএম
মঞ্চে দেশ নাটক নিয়ে আসছে নতুন প্রযোজনা ‘পারাপার’। মাসুম রেজা রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ফাহিম মালেক ইভান। ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। পরদিন একই হলে থাকছে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
নাটকের পোশাক পরিকল্পনায় সাজিয়া আফরিন, মঞ্চ পরিকল্পনায় কাজী কোয়েল, আলোক পরিকল্পনায় গোলাম ফারুক টিটু, সংগীতায়োজন করেছেন অসীম নট্ট, লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, ইমামুর রশীদ, ফাহিম মালেক ইভান। সুরের ব্যঞ্জনায় দর্শকদের বিমোহিত করতে নাটকে গীত আর নৃত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছেন নির্দেশক। নাটকের বিভিন্ন গানে সুর দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক ও ফাহিম মালেক ইভান। কোরিওগ্রাফি করেছেন ফেরদৌস হাসান। পারাপার নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—কামাল আহমেদ, অসীম কুমার নট্ট, কাজী রাজু, গোলাম মাহমুদ, আশরাফুল আশীষ, মাঈন হাসান, আরিফ হক, কাজী লায়লা বিলকিস, সোমা ফেরদৌসী, ইসমত জেরিন, তানহা, ব্রততী, ইব্রাহিম, লিমন, শাহেদ, সজীব, সবুজ, বাদশা, নাঈম, নাইমুর, নাভিদ, সাজ্জাদ, শামীমসহ আরও অনেকে।

সাধারণ জীবনে মানুষের সরলতা ও নিষ্ঠুরতার মতো বিপরীত প্রকাশ যেন ঘটেছে দেশ নাটকের ২৪তম প্রযোজনা পারাপারে। গল্পে দেখা যায়—ভাবোখালী গ্রামের সরল মানুষগুলো জীবনকে খুব সহজ করে দেখে। ঘুড়ির খেলা, পালাগান, ঐতিহ্যবাহী সব আয়োজনে আনন্দে অতিবাহিত হয় দিন। গ্রামের মহাজন ড্যাডম মালিথার বাড়িতে প্রতি বছর আয়োজিত হয় পালাগান। এবারের আয়োজনে পালা করবে কলকাতা থেকে আসা ড্যাডম মালিথার পুত্র ডালিম মালিথার বন্ধু চিনু গায়েন। পালাগানে সবাইকে মুগ্ধ করে ভাবোখালী গ্রামের সবার মন জয় করে নেয় চিনু। সে মুগ্ধতার ঘোর লাগে জোছনার মনেও। চিনুর অপূর্ব বাকচাতুর্য আর গুণে নিজের অজান্তেই জোছনা জড়িয়ে পড়ে ভালোবাসায়। অন্যদিকে, চিনুর গ্রাম ছোট ঝলমলিয়ার বাড়িতে চিনুরই অপেক্ষায় থাকে মাঞ্জেলা, চিনুর সঙ্গে বিয়ে হবে বলে প্রতীক্ষায় কাটে যার চার বছর।

ভালোবাসার মানুষের প্রতীক্ষার প্রহর যখন শেষ হয় না তখন মাঝেমধ্যেই গ্রামে ফেরি করতে আসা চুড়িবুড়ির কাছে তার গোপন কথার পসরা সাজায়। চুড়িবুড়িও তাকে সান্ত্বনা দেয়, সেই সঙ্গে পরামর্শ দেয় চিনুকে ভুলে যাওয়ার, প্রতিশ্রুতি দেয় কলকাতায় নিয়ে চাকরি দেওয়ার। অন্যদিকে ভাবোখালী গ্রামের সবার ইচ্ছায় চিনুর সঙ্গে বিয়ে হয় জোছনার এবং তারই সঙ্গে কলকাতায় পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে এসে পৌঁছায় বেনাপোলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। অবরোধে সীমান্ত বন্ধ থাকায় আশ্রয় নেয় এলাকার প্রভাবশালী সংস্কৃতি অনুরাগী, যাত্রাদলের পৃষ্ঠপোষক রশিদ কোম্পানির হোটেলে। সেখানে এসে চিনুর নতুন পরিচয় উন্মোচিত হয়। প্রকাশিত হয় এক অজানা তথ্য। হঠাৎই চিনুর মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় মাঞ্জেলা। সেও বুড়ির সঙ্গে কলকাতায় যাওয়ার প্রত্যাশায় এখানে এসে হাজির। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।