প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:০৭ পিএম
‘বৃষ্টি এখন আর ভালো লাগে না/কান্নার শব্দ মনে হয়, মেঘলা আকাশ কেমন যেন/বেদনার চাদরে ঢেকে রয়, আমার বুকে কেন বৃষ্টি অঝোরে ঝরে পড়ছে/তবু সারাক্ষণ আমার হৃদয়মন নিবিড় অপেক্ষা করছে...’—এ লাইনগুলোর প্রতিটি শব্দই যেন কুমার বিশ্বজিতের বর্তমান জীবনের প্রতিধ্বনি।
প্রায় সবাই জানেন, দূর পরবাসে কিংবদন্তির একমাত্র ছেলে নিবিড় কুমার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন প্রায় এক বছর ধরে। তার অসহায় বাবা শুরু থেকেই সব ফেলে ছেলের সুস্থতার প্রহর গুনছেন হাসপাতালের করিডোরে পায়চারি করে।
কিংবদন্তি কুমার বিশ্বজিতের দীর্ঘ, উজ্জ্বল আর গতিময় সংগীত ক্যারিয়ারে যেন নেমে এলো হঠাৎ নীরবতা।
মূলত সে অপেক্ষাময় কঠিন নীরবতাই কুমার বিশ্বজিতের হয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন গীতিকবি হাসানুজ্জামান মাসুম ও সংগীত পরিচালক কিশোর দাশ। তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ নিজে। গানটির নাম রাখা হয়েছে ‘নিবিড় অপেক্ষা’।
এখনও কুমার বিশ্বজিৎ নিবিড় অপেক্ষায় আছেন কানাডার একটি হাসপাতালের করিডোরে। সেখান থেকে এ গানটি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতেই আবেগাক্রান্ত হলেন। বললেন নিবিড়কে ঘিরে তার বেদনাময় অপেক্ষার কথা, ‘প্রথমেই বলি, এটাকে আমি গান বলতে চাই না। এটা একজন পিতার আর্তি। আমি ভাবিনি নিবিড় ও তার সহপাঠীদের এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আবারও গাইব। কারণ সেই মানসিক শক্তি বা আগ্রহটাই মরে গেছে। মাসের পর মাস এ দূর পরবাসে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি ওর কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায়। নিবিড়ের তিন সহপাঠীর অনুপস্থিতি আমাকে প্রতিনিয়ত পিতৃসমতুল্য বেদনায় আচ্ছন্ন করে।’
‘নিবিড় অপেক্ষা’ সৃষ্টি প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘মাঝে আমি কয়েক দিনের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম। তখন কিশোর ও মাসুম একটা গান করার জন্য বারবার অনুরোধ করছিল। আমিও বারবার ওদের ইগনোর করেছি। কারণ গানটা তো আমরা প্রাণ দিয়ে করেছি আজীবন। এখন তো আর আমার ভেতরে সেই প্রাণটা নেই। ওরা এর পরও একটা ডামি বানিয়ে আমাকে শোনাল। শুনে মনে হলো, কথাগুলো তো আমারই। সুরটাও আমার ভেতরের হাহাকারের মতো। যেগুলো আসলে প্রকাশ করতে পারছি না। পাথর হয়ে আছি। সত্যি বলতে এ গানটা গাইবার পর পাথরটা খানিক গলল বোধহয়।’
প্ল্যাটফর্ম এন্টারটেইনমেন্টের পরিবেশনায় নিবিড় অপেক্ষা নামের বিশেষ গানটি একযোগে দেশের ১৮টি ব্যানার থেকে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে ২৫ জানুয়ারি। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছে প্রেক্ষাগৃহ।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি টরন্টোর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুমার নিবিড় গুরুতর আহত হন। নিবিড় সেখানকার হাম্বার কলেজের শিক্ষার্থী।