প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:২০ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:২১ পিএম
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সাইমন সাদিক। ২০১২ সালে জাকির হোসেন রাজুর জ্বি হুজুর সিনেমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশকিছু ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেতা চলচ্চিত্র শিল্পীদের কাছে একজন সফল নেতা। নতুন বছরে শেষ বাজি শিরোনামে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন সিনেমা। এরই মধ্যে তিনি আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে। নতুন সিনেমা এবং শিল্পী সমিতির পদ থেকে অব্যাহতির কারণ জানিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মহিউদ্দিন মাহিÑ
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে আপনার নতুন সিনেমা শেষ বাজি। দর্শক মহল থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আশা অনুযায়ী সিনেমাটি থেকে তেমন সাড়া পাচ্ছি না। এর কারণ হচ্ছে হল সংখ্যা কম পাওয়া। তবে যে কয়টি হলে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে সেসব জায়গা থেকে আলহামদুলিল্লাহ ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই সিনেমাটি দেখে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রশংসা করছেন গল্পের ও পর্দার নতুন সাইমনের।
সিনেমাটির ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর বেশ আলোচনায় ছিল। এরপরও হল কম পাওয়ার কারণ কী মনে হচ্ছে আপনার কাছে?
এর কারণ অনেক। এর মধ্যে একটি কারণ ব্যাখ্যা করি। সেই কারণটি হচ্ছেÑ এক সপ্তাহে তিন সিনেমা মুক্তি। আমরা সবাই জানি, আমাদের দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। সেই সীমিত সংখ্যার মধ্যে ঈদছাড়া অনেক হলই বছরজুড়ে থাকে বন্ধ। নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই তখন হল মালিকরা কিছু মুনাফার জন্য বন্ধ হলগুলো চালু করেন। সেক্ষেত্রে দেশি নতুন সিনেমা একটি, সর্বোচ্চ দুটি মুক্তি দেওয়া হয়। তাতে করে হল মালিক ও প্রযোজক দুজনই লাভবান হন। কিন্তু একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পেলে হলের ভাগটা বেশি হয়। এর মধ্যে আবার আমদানি করা বিদেশি সিনেমা নানা কারণে হলে এগিয়ে থাকে। এবারও তাই হয়েছে। এটা প্রভাবিত করেছে আমাদের সিনেমাকে। আমি শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিপক্ষে ছিলাম। তবে চেয়েছিলাম হল মালিকদের উপকার যদি সত্যি হয় এবং নিয়ম মেনে ছবি আসে, তবে দেখা যাক ইফেক্টটা কী। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট, এই ছবি আমদানিতে দেশের সিনেমার কোনো লাভ নেই।
একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি দেওয়ায় লোকসান তাহলে কাদের?
অবশ্যই দেশের সিনেমার। দেশের ইন্ডাস্ট্রির। আপনারা জানেন, দুই মাস ধরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। বছরের প্রথম মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশি নতুন দুই সিনেমার সঙ্গে বিদেশি সিনেমা মুক্তি দেওয়ার আমি কোনো যুক্তি দেখি না। এই সিনেমাটি এক সপ্তাহ পরও মুক্তি দেওয়া যেত। কিন্তু অধিক লাভের লোভে দেশি সিনেমার ক্ষতি করে ফেলা হয়েছে। এমন চলতে থাকলে দেশের নির্মাতারা যেমন মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হবেন, তেমনি প্রযোজকরা সিনেমা নির্মাণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তখন দিন শেষে লোকসান আসলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিরই হবে। অনেকে মোশাররফ করিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলছেন। মোশাররফ ভাই আমার গুরুজন। আমার কাছে অভিনয়ের প্রেরণা তিনি। তার মতো অভিনেতার সঙ্গে আমাকে নেতিবাচকভাবে যারা জড়ায় তাদের উদ্দেশ্য ভালো না। এটা উনার ছবি না হয়ে যে কারো ছবি হতে পারত। নিয়ম ভেঙে দেশের ছবির ক্ষতি করে যে সিনেমা, আমি তার বিপক্ষে।
সম্প্রতি আপনি শিল্পী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন, যা এখন বিনোদনপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত খবর। এর কারণ জানতে চাই...
আপনারা জানেন, আমার অভিনীত শেষ বাজি সিনেমাটি (১৯ জানুয়ারি) মুক্তি পেয়েছে। একই দিনে নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যা আমাদের অধিকাংশ সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। যে কারণে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প এবং আমার ক্যারিয়ার যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশি ভাষার সিনেমা আমদানি প্রসঙ্গে আমাদের সমিতি নীরব রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় সমিতির কার্যকরী কমিটিতে থাকা আমি (নিজেকে) অযৌক্তিক এবং অনুচিত মনে করছি। তাই সহসাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। দেশের চলচ্চিত্র বাঁচাতে যে সংগঠনের কোনো মতামত নেই, প্রয়োজনের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে, সেই সংগঠন করে শিল্প ও শিল্পের কোনো লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না। তাই চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতেই আমার এই সিদ্ধান্ত এবং আমি এই সিদ্ধান্তে অটুট।
সমিতির পক্ষ থেকে আপনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো বার্তা এসেছে?
আমি তাদের বার্তার অপেক্ষায় নেই। আমি আমার সিদ্ধান্ত সভাপতিকে জানিয়ে দিয়েছি। আমার কাজ শেষ। এরপর এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই। আমার শিল্পী সমিতির প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আছে। আমাকে শিল্পীরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাদের প্রতি আমি দুঃখিত। তবে শিল্পী সাইমন সবার সঙ্গেই থাকবে।
দেশের সিনেমা নিয়ে এরপর আপনার পদক্ষেপ কী?
আমি একজন শিল্পী। অভিনয় আমার পেশা। বিশ্বব্যাপী আমার পরিচিতি ঢাকাই সিনেমার নায়ক হিসেবে। এই পরিচিতি রক্ষায় আমার যা যা করণীয় তাই করব। ঘোষণা দিয়ে কোনো কিছু করার পাত্র আমি নই।
বড়পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও কি কাজের ইচ্ছা আছে?
আমার কাজ অভিনয়। গল্প ভালো লাগলে আমি যেকোনো প্ল্যাটফর্মেই কাজ করব। বিশ্বের বাঘা বাঘা তারকারা তেমনটাই করছেন। সেক্ষেত্রে ওটিটিতে ভালো গল্পে অভিনয়ের সুযোগ এলে অবশ্যই করব। এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সময় চলছে। দর্শক ওটিটি কন্টেন্ট পছন্দ করছেন। অবশ্যই ওটিটিতে কাজের ইচ্ছা আছে। কিছু চমক আসবে দ্রুতই।
সবে নতুন বছর শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই আপনার একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এ ছাড়া আরও কী কী সিনেমা এ বছর মুক্তির তালিকায় রয়েছে?
গত বছর ও এর আগের বছরে শুটিং করা ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বাহাদুরি’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘জলরঙ’, ‘চাদর’, ‘নরসুন্দর’, ‘নদীর বুকে চাঁদ’-এর কাজ শেষ। সবকটি সিনেমাই এ বছর মুক্তির তালিকায় রয়েছে।