প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৫৭ এএম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ২০১৩ সাল থেকে শিল্পকলা পদক প্রদান করে আসছে।
সে ধারাবাহিকতায় ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরেও দেওয়া হবে শিল্পকলা পদক। এ দুই অর্থবছরে শিল্পচর্চায়
অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক পেতে যাচ্ছেন ২০ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান।
সে তালিকায় আছেন সাদি মহম্মদ, ড. মতিন রহমান, খায়রুল আলম সবুজ, ফুয়াদ নাসের বাবু, অরুণা
বিশ্বাস। পদক পাওয়ার খবরে আনন্দিত তারা। দীর্ঘদিনের কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে এ প্রাপ্তিতে
নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে। ধুমের মূল আয়োজনে লিখেছেন মহিউদ্দিন
মাহিÑ
সাদি মহম্মদ,
সংগীত
যেকোনো স্বীকৃতিই মন প্রফুল্ল করে। যখন গান জীবনের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছিলাম
তা ছিল কেবলই ভালোবাসা। রবীন্দ্রনাথের গান ভালোবেসে অনেক কিছুই আমি পেয়েছি। নিজের প্রশান্তি,
কোটি মানুষের ভালোবাসা। এগুলোই আমার কাছে সেরা প্রাপ্তি। তার ভিড়ে যখন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
আসে, কোনো সম্মাননা যুক্ত হয় তখন আপ্লুত হই। যারা আমাকে শিল্পকলা পদকের জন্য ভেবেছেন
তাদের ধন্যবাদ। আমার সঙ্গে আরও যারা পদক পেতে যাচ্ছেন তাদের অভিনন্দন। সবার কাছে দোয়া
চাই যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।
ড. মতিন রহমান,
চলচ্চিত্র
প্রতিটি পুরস্কারই মানুষের কাজের গতি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। শিল্পকলার
এ পুরস্কারটিও সামনের দিনগুলোয় আমাকে আরও দায়িত্ববান হতে প্রেরণা দেবে। চলচ্চিত্রে
অবদানের জন্য আমাকে যারা পুরস্কৃত করলেন তাদের ধন্যবাদ। তারা আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিলেন।
আরও ভালো কিছু করার জন্য শক্তি দান করলেন। আমি আয়োজকদের কাছে কৃতজ্ঞ, এমন একটি পুরস্কারের
জন্য আমাকে বিবেচনা করায়। কথা দিচ্ছি তাদের এ সিদ্ধান্তের সম্মান আমি মৃত্যু অবধি বহন
করে সামনে এগিয়ে যাব। এ ছাড়া সিনেমায় নতুনদের উৎসাহী করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাব। সবাই
দেশের সিনেমার সঙ্গে থাকুন। আমাদের সিনেমা সবার সহযোগিতায় একদিন বিশ্বের বুকে মাথা
উঁচু করে দাঁড়াবেÑ এ স্বপ্ন প্রতিনিয়তই দেখি।
অরুণা বিশ্বাস,
যাত্রাশিল্প
আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। মা আছেন, তিনি খুবই আপ্লুত
আমি পদক পাচ্ছি শুনে। তা-ও যাত্রাশিল্পে অবদানের জন্য। বাবা বেশি খুশি হতেন। কারণ শিল্পকলা
থেকে যাত্রাশিল্পে তিনিও পদক পেয়েছিলেন। তার মেয়ে হিসেবে আমি এ পুরস্কার অর্জন করতে
পেরে গর্বিত। শিল্পকলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে নির্বাচিত করার জন্য। দেশের যাত্রাপালা
নিয়ে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তাদের নানা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলেছি। এ সেক্টরের
শিল্পীরা বরাবরই সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। সেই বঞ্চিতদের নিয়ে তেমন কাউকে
কথা বলতে শোনা যায় না। আমি চাই শিল্পের সব বিভাগের মতো এ বিভাগটিও সবার সামনে আনা হোক।
নিয়মিত তাদের কাজের ব্যবস্থা করা হোক। শিল্পকলা একাডেমি আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, সে
সম্মান বজায় রেখে যাত্রাশিল্পে আগের মতো সামনেও কাজ করে যেতে চাই।
খায়রুল আলম সবুজ,
নাট্যকলা
নাট্যকলা বিভাগে ২০২২ সালের শিল্পকলা পদকের বিষয়টি বন্ধুদের কাছ থেকে
শুনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মী সবার থেকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা পাচ্ছি।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এমন সম্মান আমাকে আনন্দিত করেছে। আমার পরিবারকে গর্বিত করেছে।
অন্য যারা এ পদক পাচ্ছেন সবাইকে অভিনন্দন ও ভালোবসা।
ফুয়াদ নাসের বাবু,
যন্ত্রসংগীত
দেশের ব্যান্ডসংগীতের সঙ্গে আমি তিন যুগের বেশি জড়িত। পুরস্কার বা কোনো
কিছুর আশায় আমরা এ ইন্ডাস্ট্রিতে কখনও গান করিনি। তার পরও কাজের স্বীকৃতি পেতে সবারই
ভালো লাগে, তেমন আমারও লেগেছে। এ পদকের জন্য আমাকে যারা বিবেচিত করেছেন তাদের সবাইকে
ধন্যবাদ। আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো না। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমার জন্য দোয়া
করবেন।
২০২১ সালের জন্য শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন
যন্ত্রসংগীতে মো. নূরুজ্জামান, নৃত্যকলায় শারমীন হোসেন, কণ্ঠসংগীতে সাদি
মহম্মদ, চারুকলায় বীরেন সোম, নাট্যকলায় অধ্যাপক আবদুস সেলিম, লোকসংস্কৃতিতে মো. নহীর
উদ্দিন, চলচ্চিত্রে ড. মতিন রহমান, আবৃত্তিতে কাজী মদিনা, যাত্রাশিল্পে এম এ মজিদ,
সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক হিসেবে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ।
২০২২ সালের জন্য শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন
যন্ত্রসংগীতে ফুয়াদ নাসের, নৃত্যকলায় সাজু আহম্মেদ, কণ্ঠসংগীতে এলেন
মল্লিক, চারুকলায় অধ্যাপক অলক রায়, নাট্যকলায় খায়রুল আলম সবুজ, লোকসংস্কৃতিতে সুনীল
কর্মকার, ফটোগ্রাফিতে রফিকুল ইসলাম, আবৃত্তিশিল্পে মীর বরকতে রহমান, যাত্রাশিল্পে অরুণা
বিশ্বাস, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায় ড. সফিউদ্দিন আহমদ।