প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:২৮ এএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:১০ পিএম
সংগৃহীত
দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। আজ তার জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের আজকের দিনে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা প্রয়াত প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ মাহমুদুন্নবী। ছোট বোন সামিনা চৌধুরী ও ছোট ভাই পঞ্চমও দেশের জনপ্রিয় দুই সংগীত তারকা। এবারের জন্মদিনটি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাটাচ্ছেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিজের জন্মদিন ও ব্যস্ততা নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় ফাহমিদা নবীর। তাকে নিয়ে লিখেছেন মহিউদ্দিন মাহিÑ
জন্মদিনের শুভেচ্ছা। দেশের বাইরে আছেন কেমন কাটল দিনটি?
ধন্যবাদ। অসাধারণ একটি দিন কেটেছে। এখানে আমার ও সামিনার পরিবারের সবাই রয়েছে। বাচ্চাকাচ্চা ও ছোট বোনের সঙ্গে দারুণ একটি দিন কেটেছে। আমি নভেম্বরের মাঝামাঝি এসেছি। এবারের সফরে আনন্দের অনেক মুহূর্ত আছে। একটি স্মরণীয় ঘটনাও ঘটেছে। সেটি হলো আমি আর সামিনা প্রথমবার একসঙ্গে ট্রেনে উঠেছি। এর আগে আমি ট্রেনে উঠলেও সামিনার এটাই প্রথম। বিষয়টি ছোট হলেও আমাদের দুজনের জন্য অসাধারণ ছিল। আমরা এমন ছোট ছোট বিষয়েই আনন্দ পাই। এটি আমার কাছে জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা। আফসোসও ছিল জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে যাওয়ার।
দীর্ঘ ৪৪ বছরের বেশি সময় ধরে গানের সঙ্গে আপনি, সংগীতের সঙ্গে দীর্ঘ এ যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাই...
সংগীতে এ দীর্ঘ যাত্রাটি অবশ্যই খুব উপভোগের ছিল। আমি সব সময় গান ভালোবাসতাম বলেই হয়তো নিমেষেই এতগুলো বছর চোখের পলকে কেটে গেছে। তবে দীর্ঘ এ সফরে যেমন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছিল, তেমন ভালোবাসা ছিল, সংগ্রাম ছিল এবং তৃপ্তিও ছিল। এসব বিষয় যখন একত্র হয়ে যায় তখন আবার ভিন্নরকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। যখন কাজের মাধ্যমে নাম বড় হতে থাকবে তখন সেটি ধরে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে খুবই সৎ এবং সঠিক রাখতে হয়। কারণ আমি সব সময় একটি কথা মাথায় রাখি। তা হলো, আমার কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে বাবার নামের যেন অসম্মান না হয়। এসব বিষয় সঙ্গে নিয়ে এখনও আমি স্ট্রাগল করে যাচ্ছি।
সংগীতে সঙ্গে এত দিন ধরে জড়িত আপনি। তবু স্ট্রাগল করতে হচ্ছে?
আমি সব
সময় সংগ্রাম করতে পছন্দ করি। ভালো কিছু করতে হলে, নতুন কিছু করতে হলে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। আর তার জন্য স্ট্রাগল করার মানসিকতা থাকতে হবে। এটা একটা অ্যাডভেঞ্চারও বলা যায়। জীবনে এসব লাগে নিজেকে সতেজ রাখার জন্য, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। একটা সময়ের স্ট্রাগল ছিল অন্যরকম। এ বয়সের স্ট্রাগলটা ভিন্ন। আমি উপভোগ করছি। এজন্যই হয়তো এখনও সংগীতকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে পারি। আমি মনে করি শিল্পীকে প্রতিনিয়তই স্ট্রাগল করতে হয়Ñ নতুন আবিষ্কারের, নিজেকে ভালো রাখার।
নতুন বছরে গান নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?
আমি নিয়মিতই গান করি। গান নিয়ে অন্যরকম চিন্তা তৈরি হয়েছে আমার মধ্যে। যেমন স্রোতের বিপরীতে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শ্রোতার জন্য গান করতে চাই। কিছু স্পেশাল শো করতে চাই। এসব শোতে যারা আসবেন তাদের জন্যই গান করব। কারণ সবাই এখন সমাজমাধ্যম বেছে নিয়েছে নিজেদের প্রচারের জন্য। আমি এ মাধ্যমগুলোর বিপরীতে গিয়ে শ্রোতাদের জন্য ভিন্ন আয়োজনে গান করতে চাই। দেখা যাক। এর বাইরে ‘কারিগরি’ নামে আমার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে গান শেখানো হয়, ভয়েস গ্রুমিং করানো হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আমার কিছু স্বপ্ন আছে। এ ছাড়া বাবার কিছু গান নতুন করে আবার সবার সামনে নিয়ে আসার একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের গান নিয়ে আপনার ভাবনার কথা জানতে চাই...
এক কথায় বলব, ভালো। বর্তমানে নতুনদের ভেতরে অনেক ট্যালেন্ট রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে নিজেদের ধরে রাখার চেষ্টা ও শিল্পের প্রতি সচেতনতার কমতি রয়েছে। এ প্রজন্ম ভাইরাল হতে চায়, খবরের শিরোনাম হতে চায়; যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য বিপদ টেনে আনবে। গান হবে, ভাইরাল হবে কিন্তু কালজয়ী কিছু হবে না, যা বছরের পর বছর মানুষের হৃদয়ে জীবিত থাকবে। তাই নতুনদের জন্য আমার একটাই পরামর্শ থাকবে ভালোবেসে গান গাইতে হবে, ভাইরাল হওয়ার জন্য নয়। তাহলে বছরের পর বছর নিজেদের গান টিকে থাকবে। মানুষ তোমাদের ভালোবাসবে, আপন করে নেবে। আর এটাই আসলে জীবনের সেরা পাওয়া। সেটা একটা সময় তারাও বুঝবে। হয়তো তখন সময়টা থাকবে না। তাই মেধা ও সৃষ্টিশীলতাকে যত্ন করে তার যথাযোগ্য ব্যবহার ও বিকাশ ঘটাতে হবে।
ফাহমিদা নবী অনেক শিল্পীরই প্রিয়। আপনার প্রিয় শিল্পী কারা?
আমার বাবা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সামিনা চৌধুরী, বাপ্পা মজুমদার।