সৌম্য প্রীতম
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২২ ১৮:১৮ পিএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৫০ পিএম
জীবনে মানুষের অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়। তবে বেশিরভাগ সময় এমন সংকটময় পরিস্থিতি হয় ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বছরের পর বছর? বাস্তবজীবনে এমন পরিস্থিতিতে না পড়লেও সেলুলয়েডের পর্দায় এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটল বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডিংয়ে থাকা ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ সিনেমায়।
প্রথম জীবনে যে কি না ছিল দাস। জীবনের সব জটিলতাকে ধারণ করে চলছিল যার জীবন। সে এমনই হতভাগা যে, তার বেঁচে থাকার জন্য জীবন দিতে হয়েছিল সন্তানকে। সন্তানের পাওয়া ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেবতারা স্থানান্তর করে দেয় তার মধ্যে। সাধারণ এক দাস হয়ে ওঠে সুপারহিরো। ‘শাজাম’ বললেই যে হয়ে ওঠে ক্ষমতাধর। এমনই তার ক্ষমতা, সে রেগে গেলে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে পৃথিবীতে। সন্তান হত্যার প্রতিশোধ নিতে সে ক্রোধে, ক্ষোভে ধ্বংস করে দিয়েছিল এক বিশাল শহর। সে দেখে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্দি করে রাখে মিসরের ক্ষমতাধর দেবতারা। প্রায় ৫ হাজার বছর বন্দি অবস্থায় কাটিয়ে ঘটনাক্রমে ছাড়া পেয়ে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসে ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’। সেই পুরোনো শহরে। নেমে পড়ে নতুন মিশনে। সেখানে তাকে মোকাবিলা করতে হয় নরকের শয়তানের আশির্বাদপুষ্ট এক ভয়ংকর শত্রুর সঙ্গে। যাকে ধ্বংস করে পৃথিবীতে শান্তি নিয়ে আসে ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’।
ডিসির এ সুপারহিরো চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডোয়াইন জনসন। সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবিটি দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন রেসলিংয়ের দুনিয়া ছেড়ে একদমই ভুল করেননি তিনি।
এ কথার পেছনে অবশ্যই পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেবে। তার অভিনীত রেড নোটিস, ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস : হব অ্যান্ড শ, জুমাঞ্জি : ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গলসহ প্রায় বেশিরভাগ সিনেমা বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল।
ব্যবসার নিরিখে তিনি যে বর্তমানে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন অভিনেতা, তা বলাই বাহুল্য। গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য রক’ খ্যাত ডোয়াইনের ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর ছবিটি আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছে।
মুক্তির শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করছে ডোয়াইন জনসন অভিনীত সিনেমাটি। মুক্তির চারদিনে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা! যদিও অনেক সিনে সমালোচক ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তবে সাধারণ দর্শক সিনেমাটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছে।
বিভিন্ন দেশে মুক্তির দিনের চেয়ে পরের দিনগুলোতে দর্শকের উপস্থিতি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। রটেন টমেটোস (সিনেমার জনপ্রিয়তা পরিমাপের একটি ওয়েবসাইট) প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটির রেটিং ৯০ শতাংশ, যা ডিসি কমিকসের গত এক দশকে মুক্তি পাওয়া যেকোনো সিনেমার চেয়ে বেশি।
‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ হলো ওয়ার্নার ব্রাদার্স এবং নিউ লাইন সিনেমার চলচ্চিত্র ‘শাজাম’-এর স্পিন-অফ। চরিত্রটি প্রথম ১৯৪০-এর দশকে ডিসি কমিকসে একজন ভিলেন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কয়েক বছর পর ২০০০ সালে এটি অ্যান্টি-হিরো হিসেবে হাজির হয়। মিশরীয় দেবতাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী ব্ল্যাক অ্যাডাম।
প্রথম ট্রেইলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে আলোচনার পারদ ওপরে উঠতে শুরু করে। কারণ প্রথমবারের মতো ডিসি কমিকসের কোনো সিনেমায় অভিনয় করেছেন ‘দ্য রক’। এ ছাড়া সিনেমাটির আরও একটি বড় চমক হলো এতে দেখা গেছে সাবেক জেমস বন্ড তারকা পিয়ার্স ব্রসনানকে। ডিসি কমিকসের সুপারহিরো সিরিজের শাজামের প্রধান ভিলেন বলা হয়ে থাকে ব্ল্যাক অ্যাডামকে। যদিও ভিলেন নয়, অ্যান্টি-হিরো হিসেবেই বেশি পরিচিত চরিত্রটি। তবে ছবিটিতে জনপ্রিয় এ চরিত্রকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন পরিচালক জাউমি কোলেট।
এ ছাড়া ‘জঙ্গল ক্রুজ’ পরিচালক জাউমে কোলেট পরিচালিত ও ডোয়াইন জনসন অভিনীত ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ সিনেমাটিতে হকম্যানের চরিত্রে অ্যালডিস হজ, অ্যাটম স্ম্যাশারের চরিত্রে নোয়া সেন্টিনিও এবং সাইক্লোন চরিত্রে কুইন্টেসা সুইন্ডেল অভিনয় করেছেন। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন অ্যাডাম স্টাইকিয়েল, ররি হেইনস এবং সোহরাব নশিরভানি।
ছবির শেষদিকে বড় চমক রেখেছেন পরিচালক। যেখানে হাজির হয় সুপারম্যান। কার ক্ষমতা বেশি এবং কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করবে সে বিষয়ে ব্ল্যাক অ্যাডামকে বসে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায় সুপারম্যান। ধারণা করা হচ্ছে সুপারম্যানের আগামী পর্বে দেখা মিলবে ব্ল্যাক অ্যাডামের।
২১ অক্টোবর সারাবিশ্বে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। একই দিন থেকে এটি দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সের সবগুলো শাখাতে।
প্রবা/এসএস/এলএ/টিই