প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:০৫ এএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:৩১ এএম
কলকাতার জনপ্রিয় ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু। কাল ঢাকা মাতিয়ে গেলেন তারা। শত শত তরুণকে শুনিয়ে গেলেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় গান ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’। এ গানটি ১৯৯৭ সালে চন্দ্রবিন্দু তাদের ‘আর জানি না’ অ্যালবামে ব্যবহার করেছিল। এর পর থেকে গানটির এ লাইন ফিরে আসার যেকোনো গল্পে শিরোনাম আকারে অনেকবারই ব্যবহার হয়েছে।
দীর্ঘ সময় আলোচনার বাইরে থাকা বলিউড অভিনেতা ববি দেওলের বেলায় এ গানের শিরোনামটি এখন সবচেয়ে বেশি সুন্দর উপমা হতে পারে। ববি ফিরলেন অসময়কে জয় করে। প্রমাণ করলেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে ফিরে আসা যায়।
ডিসেম্বরে ভারতসহ বিশ্বের ৪ হাজারের বেশি সিনেমা হলে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত সিনেমা ‘অ্যানিমেল’ মুক্তি পেয়েছে। ৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর। দীর্ঘ এ সময়ের পুরোটা জুড়েই পর্দায় রণবীরের উপস্থিতি ছিল সবার চেয়ে বেশি। তবে আবরার উল হক চরিত্রে মাত্র কয়েক মিনিটের অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন ববি দেওল। সেটাও কোনো সংলাপ ছাড়াই। বার্তা দিয়েছেন, বয়স হলেও সোলজার ববি এখনও ফুরিয়ে যাননি।
অ্যানিমেল মুক্তির আগে ববি ছিলেন নির্মাতাদের অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে। প্রযোজক-পরিচালকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে কাজের জন্য ফেরি করে বেড়াতেন তিনি। সবাই কাজের আশ্বাস দিলেও আস্থা রাখেননি কেউই। তাইতো স্ত্রীকে কর্মস্থলে পাঠিয়ে ঘরে বসে মদ্যপান ছিল তার নিয়মিত রুটিন। এসব করে একমাত্র ছেলে ও সমাজের কাছে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। স্ত্রীর পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিজে পার্টিতে কাজ খুঁজতে শুরু করলেন। কিন্তু কেউই কাজ দেয়নি। তাই যা পান তা-ই করতে শুরু করলেন। ২০১২ সালের পর সিনেমায় সুযোগ না-পাওয়া এ অভিনেতার ওপর আস্থা রাখলেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। ২০১৮ সালে তার ‘রেস-থ্রি’ সিনেমায় একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেন ববি। আবারও নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ। তবে তার ফিরে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ওয়েব সিরিজি আশ্রম ও গার্লস হোস্টেল। দুটি সিরিজেই নেগেটিভ চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেন। চরিত্রগুলোয় এতটাই ভয়ংকর ছিলেন মনে হচ্ছিল ব্যক্তিজীবনে নিজের ওপর যে ক্রোধ পুরোটাই পর্দায় নিংড়ে দিয়েছেন।
সেই ভয়ংকর ববিকে জন্তুরূপে পর্দায় তুলে আনলেন অ্যানিমেল পরিচালক। বাকি গল্প দর্শকের সামনে মাত্র কয়েক দিনেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। সাধারণ দর্শক তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সমালোচকদের চোখেও ববির এমন ফিরে আসা দারুণ দৃষ্টান্ত। ববিও এ সময়টা উপভোগ করছেন। ভারত-দুবাই, যেখানেই সিনেমার প্রচারে ডাক আসছে ছুটে যাচ্ছেন। দর্শক-ভক্তদের ভালোবাসায় সাড়া দিচ্ছেন। কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে প্রকাশ্যেই কাঁদছেন। এ কান্না দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতার। ববিও বলে দিয়েছেন, যত দিন দর্শক ভালোবাসবে তত দিন তিনি ফুরিয়ে যাবেন না। কাজ করে যেতে চান নতুন জন্মের প্রতি সুবিচার করে।