প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম
২০০৮ সালে কোক স্টুডিও’র যাত্রা শুরু হওয়ার পর সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আসে কোক স্টুডিও বাংলা (সিএসবি)। শুরু হওয়ার পর থেকেই বৈচিত্র্যময় ধারার প্রতিভাদের একত্রিত করে সৃজনশীল ও নতুন ধারার সঙ্গীত সৃষ্টির মাধ্যমে সংগীত জগতে আলোড়ন তৈরি করে প্ল্যাটফর্মটি।
দুটি সিজনে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গান প্ল্যাটফর্মটিতে পরিবেশিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১০০জন শিল্পী, যার মধ্যে আছেন অনিমেষ রায়, হামিদা বানু, আলেয়া বেগম, মুকুল মজুমদার ঈশানসহ অনেক লুকিয়ে থাকা রত্ন। তাদের কারো কারো ক্যারিয়ারই শুরু হয়েছে এর মাধ্যমে।
কোক স্টুডিও বাংলা’র ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২৮.৬ লাখেরও বেশি। সিএসবি’র গানগুলো সারা পৃথিবীর দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। ইউটিউবে সেরা গানের তালিকায় রয়েছে প্রথম সিজনের ‘ভবের পাগল’, ‘বুলবুলি’ ও ‘নাসেক নাসেক’ এবং দ্বিতীয় সিজনের ‘দেওরা’ ও ‘কথা কইয়ো না’।
জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮-৩৪ বছর বয়সের মানুষেরা কোক-স্টুডিও বাংলা’র ভক্তদের মধ্যে প্রধান। মোট সাবস্ক্রাইবারদের ৮০%-এর কিছু বেশি বাংলাদেশি। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আছে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। এরপরেই আছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নানা দেশ। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর মতো বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে কোক স্টুডিও বাংলা’র স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবে কলকাতাতেও এই প্ল্যাটফর্মের ভালো সংখ্যক ভক্ত আছে, যারা ভালোবেসে একে আপন করে নিয়েছেন।
স্পটিফাইয়ের ডেটা দিয়েই সম্ভবত কোক স্টূডিও বাংলা’র বিস্ময়কর সাফল্যের চিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায়। এখন পর্যন্ত মোট স্ট্রিমিং ডিউরেশন ১.৩৮ কোটি স্ট্রিম, যা ৭.৫ কোটি মিনিটের সমান। এর চেয়েও বেশি চমকপ্রদ হচ্ছে কোক স্টুডিও বাংলা’র গানগুলোর সাথে যুক্ত শিল্পীদের স্পটিফাই অ্যাকাউন্টের বৃদ্ধির চিত্র। স্পটিফাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পর থেকে স্পটিফাইয়ে বাংলা গান শোনার পরিমাণ ৪ গুণ বেড়ে গেছে । স্পটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া সিএসবি গানগুলো হলো প্রথম সিজনের ‘বুলবুলি’, ‘চিলতে রোদ’ ও ‘ভবের পাগল’ এবং দ্বিতীয় সিজনের ‘দেওরা’, ‘কথা কইয়ো না’ ও ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’। টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম ট্রেন্ডিংয়েও কোক স্টুডিও বাংলার গানগুলো ছিল শীর্ষে।
সম্প্রতি ঢাকার একটি রেস্তরাঁয় আলাপে অংশ নেন 'কোক স্টুডিও বাংলা'র কিউরেটির ও সংগীতশিল্পী অর্ণব এবং কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অফ মার্কেটিং আবীর রাজবীন। সেখানে অর্ণব বলেন, ‘আমাদের তরুণরা এখন নানা ধরনের গান শুনতে চায়। অনলাইন দুনিয়ায় ঘরে বসেই হিপহপ থেকে ক্লাসিক্যাল সবই এখন সহজে শোনা যাচ্ছে। আমরা বাংলা গানের বৈচিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি। বাংলা গানকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি। কোক স্টুডিও বাংলা বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে বাংলা সঙ্গীত ও শিল্পীদের।’
সংগীত ছাড়াও বাংলাদেশের শিল্প ও সৃজনশীল জগতেও কোক স্টুডিও বাংলা প্রভাব রেখেছে উল্লেখ করে আবীর রাজবীন বলেন, প্ল্যাটফর্মটি যাত্রা শুরু করার পর থেকে, এই চমৎকার গান ও শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে হাজারো ভক্ত ও শিল্পীরা তাদের সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রকাশ করেছেন। পেইন্টিং, স্কেচ, ডিজিটাল আর্ট, অ্যানিমেশন, ক্যালিগ্রাফি, এআই-জেনারেটেড ইমেজেস ইত্যাদিসহ হাজারো চিত্রকর্ম ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে।
এই উৎসাহ ও সৃজনশীলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্ল্যাটফর্মটি ‘কোক স্টুডিও বাংলা বিলবোর্ড ফ্যান আর্ট কনটেস্ট’ শুরু করে। দুই মাসেরও কম সময়ে তাদের কাছে ৬০টির বেশি শিল্পকর্ম জমা পড়ে, যার মধ্যে নির্বাচিত কিছু শিল্পকর্ম ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের ১১টি বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হয়েছে।