প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:০৪ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
কণ্ঠশিল্পী দিঠি আনোয়ার। বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সুযোগ্য কন্যা তিনি। বাবার উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় সেই ছোটবেলায় নিজেকে জড়িয়েছিলেন গানে। দেখতে দেখতে পার করলেন সংগীত জীবনের দীর্ঘ ৩০ বছর। সম্প্রতি স্টার প্লাস মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে সেরা সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন। সে অনুষ্ঠানে গান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে।
গানে গানে ৩০ বছর গেল। কেমন ছিল এ জার্নিটা?
দেখতে দেখতে ৩০টি বছর পার হয়ে গেল। এ জার্নি ছিল অসাধারণ। আমার গানে হাতেখড়ি আট বছর বয়সে। বাবাই আমাকে জন্মদিনে হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন সেই বয়সে। শুরুতেই ওস্তাদ ইয়াসিন হোসেন খানের কাছে গানে উচ্চাঙ্গ সংগীতে তালিম নিয়েছিলাম। ‘উল্কা’ সিনেমায় আমি প্রথম প্লেব্যাক করি। সেই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দ্বৈত গানে আমার প্রথম সহশিল্পী ছিলেন পলাশ। এরপর ৬০-এর অধিক সিনেমায় প্লেব্যাক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমার চারটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।
সংগীতচর্চার বর্তমান প্রেক্ষাপটকে কীভাবে দেখেন?
খুব ভালো কাজ হচ্ছে। শ্রোতাপ্রিয় গান আসছে। কোনটা কালজয়ী হবে তা সময় ঠিক করবে। তবে এখনকার গানগুলো কেমন যেন হুট করে এসে হুট করে মিলিয়ে যায়। আরেকটা বাস্তবতা হলো, প্রতিভাকে আমাদের এখানে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে কি না সেটা বিরাট এক প্রশ্ন। সুযোগের অভাবে অনেক প্রতিভা আড়ালেই থেকে যায়। ঘুরেফিরে সবখানে দুই-একটাই মুখ। যার সঙ্গে যার সম্পর্ক ভালো তাকেই সামনে এগিয়ে আনার চেষ্টা চলে।
এটা অডিও গানের ক্ষেত্রে নাকি প্লেব্যাকে?
দেখুন এটা সামগ্রিকভাবেই হচ্ছে সবখানে। তবে প্লেব্যাকে বেশি। আমাদের প্রজন্ম অনেক সৌভাগ্যবান, অনেক ভালো শিল্পী আমরা পেয়েছি। কিন্তু গুটিকয় শিল্পীকে দিয়েই সিনেমার গানগুলো করা হচ্ছে। সেখানেও এক ধরনের স্বজনপ্রীতি বা লিয়াজোঁ কাজ করে। সিনেমায় একজন সংগীত পরিচালকই গীতিকার, শিল্পী বাছাই করেন। দেখা যায় তার সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো তাদেরই বারবার সুযোগ দিচ্ছেন। যদি কিছুটা নিরপেক্ষ থাকা যায় তবে আরও যারা শিল্পী আছেন কমবেশি সুযোগ পাবেন।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নানা বিতর্ক দেখা যায়। এবারও উঠেছে। সংগীতে এ পুরস্কারটি কতটা নিরপেক্ষ বলে মনে করেন?
দেখুন প্রতিবারই কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি শব্দটি উচ্চারিত হয়। এবারই প্রথম নয়। আপনি তাকিয়ে দেখবেন আজকাল বিশ্বজুড়ে নানা রকম বড় ও মর্যাদার পুরস্কার প্রদানেও এ শব্দটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। সিস্টেম লস সবখানেই হচ্ছে। এটা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে। যারা এসব নিয়ন্ত্রণ করেন শিল্পের প্রতি দায়বোধ ও সততা না থাকলে আমি বা কেউ একজন একা এগুলো ঠিক করতে পারবে না। শুধু এটুকু বলব, স্বজনপ্রীতি হলেও সেখানে যেন প্রতিভা গুরুত্ব পায়।
নতুন কী গান আসছে?
বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। নতুন বছরে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। কিছু নতুন গান নিয়ে আসব শ্রোতাদের জন্য।