প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৫০ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:০১ পিএম
সারা বিশ্বের কাছে তার পরিচয় বিখ্যাত রক ব্যান্ড বিটলসের লিড গিটারিস্ট হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি কেবল তাই নন, সমাদৃত দুঃসময়ের এক অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু, আমাদের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। একাত্তরে তার কণ্ঠে গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি আলোড়ন তুলেছিল সারা বিশ্বে। সেই গান দারুণ ভূমিকা রেখেছিল বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত তৈরিতে।
আজ কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী।
ষাটের দশকে তরুণদের মাঝে দুনিয়াজোড়া যে বিদ্রোহ ও নানান অস্থিরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বহ্নিশিখা জ্বলে উঠেছিল, গানের ব্যান্ড হিসেবে বিটলস ছিল তারই প্রতিচ্ছবি। সংগীত দিয়ে পুরো একটা প্রজন্মকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তারা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানের নির্মম অত্যাচার বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা এবং শরণার্থীদের জন্য অর্থ জোগান দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
বাংলার আরেক বন্ধুবর রবিশঙ্করের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সেই কনসার্টের অন্যতম আয়োজক হিসেবে এগিয়ে এসেছিলেন জর্জ হ্যারিসন। সেই কনসার্টের শেষ দিকে হ্যারিসন ‘বাংলাদেশ’ নামক সেই বিখ্যাত গানটি গেয়েছিলেন। করুণ আর্তনাদের সুরে তিনি বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা।
২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই মহান শিল্পী।
কেবল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই নয়, বিশ্বের যেকোনো জাতির-দেশের দুঃসময়ে নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন।
চোখের দেখায় তিনি নেই। মানুষ ও মানবতার জন্য নতুন কোনো গান তাকে আর গাইতে দেখা যাবে না কোনো দিন। কিন্তু মানবতার শিল্পী জর্জ হ্যারিসন চির-অম্লান থাকবেন বাঙালির অন্তরে, বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণায়। তার ২২তম প্রয়াণ দিবসে রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।