প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৯ পিএম
রিকিতা নন্দিনী শিমু। তারেক মাসুদ, রুবাইয়াত হোসেন ও আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের মতো অনেক উল্লেখযোগ্য নির্মাতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ‘রানওয়ে’, ‘মাটির প্রজার দেশে’, ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ছবিগুলো একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। ২০১৯ সালের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রে নাম লেখান। এই ছবির আরেক নাম ‘শিমু’। ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। ফ্রান্সের সেইন্ট জঁ দ্য-লুজ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। এবার এই ছবির জন্য তার হাতে উঠতে যাচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর (যৌথ) স্বীকৃতি। আনন্দে ভাসছেন এই অভিনেত্রী। জানালেন প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ের অনুভূতি এবং অভিনয় নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। লিখেছেন মহিউদ্দিন মাহিÑ
প্রথম কার কাছ থেকে জানলেন পুরস্কার পাওয়ার খবরটি?
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন আপু আমাকে মেসেজ করে জানান যে আমি পুরস্কার পেতে যাচ্ছি। আমি ভেবেছি আপু হয়তো ভুল করে অন্য কাউকে মেসেজ দিতে গিয়ে আমাকে দিয়েছেন। তারপর সৈয়দ আহমেদ শাওকি ভাই কল করে অভিনন্দন জানালেন। পরে আরও অনেকে কল করে অভিনন্দন জানালেন। তখন বুঝলাম যে এটা সত্যি ঘটতে চলেছে আমার জীবনে।
যখন বুঝলেন আপনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন, অনুভূতি কেমন ছিল?
যখন সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন আমি নিশ্চিত হলাম পুরস্কারের ব্যাপারে। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। প্রথমে তো হাত-পা কাঁপছিল। এমন সাফল্য সত্যিই অনেক বড় প্রাপ্তি। ছোটবেলা থেকে অল্প অল্প করে কাজ করছি। প্রথম একটা কাজের স্বীকৃতি পেলাম বাংলাদেশ থেকে। রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি
আজীবন মাথার মুকুট হয়ে থাকবে। এ অর্জনের কৃতিত্ব আমি আমার পুরো টিমকে দিতে চাই। বিশেষ করে আমার ক্যাপ্টেন রুবাইয়াত হোসেনকে। আমার প্রতি তার আস্থা আমাকে ভালো কাজের শক্তি জুগিয়েছে বারবার। এখন আরও ভালো কাজ করতে চাই। এই পুরস্কার আমার আগামী দিনে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
আপনি জয়া আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন, এটা কীভাবে উপভোগ করছেন?
অনেক অনেক। জয়া আপু আমার প্রিয় অভিনেত্রী। তার কাজগুলো সব সময়ই প্রেরণা দেয়। তার সঙ্গে কাজও করেছি আমি। যখন দেখলাম যে জয়া আপুর সঙ্গেই আমার নামটি, তখন অন্য রকম একটা আনন্দ হলো। উনার মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে নিজেকে কোনো অর্জনের তালিকায় খুঁজে পাওয়াটা স্পেশাল।
পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে?
হ্যাঁ। রুবাইয়াত আপুকে কল দিয়েছি। উনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনিও পুরস্কার পেয়েছেন, এজন্য অনেক বেশি ভালো লাগছে। কিন্তু সবাই জানেন, দুদিন আগে রুবাইয়াত আপুর আব্বু সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন আংকেল মারা গেছেন। আপুর পরিবার সেই শোকে কাতর।
আপনার পরিবার কীভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছে?
পরিবারে সবাই খুব খুশি। গত বছর আমার বাবা মারা গেছেন। পরিবারে মা ও ছোট ভাই আছে। ওরা খুবই খুশি হয়েছে। আমার মা জানেন আমি অভিনয়ের জন্য কতটা স্ট্রাগল করি। মা গৃহিণী, সাধারণ মানুষ। উনি আমার অভিনয় নিয়ে অত কিছু জানতে চান না। তবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেতে যাচ্ছি শুনে মা কেঁদে দিয়েছেন। আমার যে কী ভালো লাগল মাকে এতটা খুশি হতে দেখে, বলে বোঝাতে পারব না।
সব সময়ই আপনাকে গ্ল্যামারহীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নারী চরিত্রে কাজ করতে দেখা যায় কেন?
গ্ল্যামারাস তারকা হওয়ার জন্য আমার কোনো মোহ নেই। আমি কেবল ভালো অভিনয় করে যেতে চাই। একজন অভিনয়শিল্পী হতে চাই। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। গল্প ও চরিত্র যখন মনে ধরে, তখন সেই কাজটি আমি করব। গ্ল্যামার থাকা না থাকা কোনো বিষয় নয়।
নতুন কী কাজ আসছে?
এখন তেমন কোনো কাজ করছি না। তবে কিছু কাজের কথা হচ্ছে। আমি আস্তে-ধীরে কাজ করতেই পছন্দ করি। অপেক্ষায় আছি ভালো কিছু করার। ভালো গল্পে কাজ করার কথা চলছে। ঠিকঠাক হলে আগামী বছর কাজ শুরু করব।