সৌম্য প্রীতম
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২২ ১৪:০৫ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২২ পিএম
বলিউডের অনেক অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী। তবে এমনটা আগে ছিল না। খুব কম বলি অভিনেত্রী বলিউডের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন ব্র্যান্ড হিসেবে। ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন তেমনই একজন। সৌন্দর্য, মেধা, অভিনয়, নাচ, ব্যক্তিত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অনন্য।
একটা সময় ঐশ্বরিয়ার সিনেমা মানেই যেন সিনেমা হলে দর্শকের হুড়োহুড়ি। তবে বিয়ে, সন্তানের পর পাদপ্রদীপের আলোয় থাকলেও বক্স অফিস ঠিক জমাতে পারছিল না রায় সুন্দরীর সিনেমা। এমন না যে তিনি একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করছিলেন। তবু কোনো এক কাকতালীয় কারণে সাফল্য এসে ধরা দিচ্ছিল না তার। এবার বেশ লম্বা বিরতির পর বড়পর্দায় ফিরেই বাজিমাত করলেন নায়িকা। বলিউড নয়, তামিল সিনেমাকেই বেছে নিলেন কামব্যাকের জন্য। অভিনয় করলেন তামিল ছবি ‘পোনিয়িন সেলভান পার্ট ওয়ান’।
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৩০০ কোটি রুপি আয় করে ইতিহাস গড়েছে মণিরত্নম পরিচালিত সিনেমাটি। এই ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বচ্চন পরিবারের বধূ। দশম শতাব্দীতে চোল সাম্রাজ্যের এক উত্তাল সময়ের গল্প নিয়ে ছবিটি। শাসক পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সম্রাটের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই আখ্যানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটির প্রথম পর্ব মুক্তি পেয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তামিল অধ্যুষিত অঞ্চল ছাড়াও ভারতের হিন্দি, তেলুগু, মালয়ালাম ও কন্নড় ভাষায় মুক্তি পাওয়া ছবিটি ঝড় তুলেছে বক্স অফিসে। প্রথম সপ্তাহে ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৩৩৬ কোটি ৪০ লাখ রুপি। চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক রমেশ বালার মতে, তামিল সিনেমার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ‘পোনিয়িন সেলভান’। এটি ‘বিক্রম’ ও ‘বিগিলু’র রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অতিক্রম করেছে ছবিটি। মাত্র এক সপ্তাহেই ছবিটি ৩০০ কোটি রুপির বেশি আয় করা তামিল ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঢুকে পড়েছে। ৩০০ কোটির ক্লাবের পঞ্চম তামিল ছবি এটি। এই তালিকার অন্য ছবিগুলো হলো—‘২০’, ‘কাবালি’, ‘এনথিরান’ ‘বিক্রম’। সর্বশেষ তথ্যমতে, ‘পোনিয়িন সেলভান’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী আয় করে নিয়েছে ৪৭৭ কোটি রুপি। এত অল্প সময়ে এমন সাফল্য রেকর্ডও বটে।
সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছেন ঐশ্বরিয়া। এতে তাকে নন্দিনী ও মন্দাকিনী দেবীর চরিত্রে পর্দায় দেখা গেছে। জানা গেছে, ঐশ্বরিয়াকে পর্দায় রানী করে তুলতে ১৮ জন শিল্পী টানা ছয় মাস কাজ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা দিন-রাত এক করে অভিনেত্রীর অলংকার বানিয়েছেন। এই অলংকারের ঝলকানিতে রানী নন্দিনীর রূপে পূর্ণতা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া।
অবশ্য মণিরত্নম বরাবরই ঐশ্বরিয়ার প্রিয় পরিচালক। এই নির্মাতার বহু ছবিতেই তাকে দেখা গেছে, সেই ‘ইরুভার’ থেকে শুরু করে ‘গুরু’, ‘রাবণ’, আর এবার ‘পোনিয়িন সেলভান’। প্রত্যেকটি সিনেমা পেয়েছে আশাতীত সাফল্য। আগামী বছর মুক্তি পাচ্ছে ‘পোনিয়িন সেলভান’-এর পরবর্তী অংশ। এটিও যে নিত্যনতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রবা/এসএস/টিই